ঢাকা     শুক্রবার   ২০ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯ ||  ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

ঝাঁকে ঝাঁকে মরছে মৌমাছি

অদিত্য রাসেল, সিরাজগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৩:৩৪, ৩ জানুয়ারি ২০২২
ঝাঁকে ঝাঁকে মরছে মৌমাছি

সরিষা ক্ষেতে কীটনাশকের কারণে মরছে মৌমাছি। ছবি: রাইজিংবিডি

সরিষার ফলন বাড়ানোর জন্য অসচেতনভাবে মাঠে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে। এতে মৌমাছি মরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন মৌ চাষিরা। মৌমাছি মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের সচেতনতায় মাঠে নেমেছে তারা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও শাহজাদপুরে সরিষা ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে এসেছেন প্রায় ৫ শতাধিক খামারি। প্রতি বছর খামারিরা এসব স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করে। এবারও ২ হাজার টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে মাঠে বসিয়েছেন মৌ বাক্স। 

খামারিরা জানান, সরিষা ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করা হয়, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। সম্ভাবনাময় এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার বেকার যুবকের।  কিন্তু এ বছর সরিষা চাষিরা ক্ষেতে ফলন বাড়ানোর আশায় ভিটামিন জাতীয় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ শুরু করেছেন। এতে মৌমাছি মারা যাচ্ছে। 

উল্লাপাড়া উপজেলার আলী গ্রামে আশার আলো মধু খামারী আব্দুর রশিদ বলেন, এ বছর সরিষার জমির পাশে মধু সংগ্রহের জন্য ৩৫০টি মৌ বাক্স বসিয়েছি। সেখানে ১০দিন ধরে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন জমির মালিকেরা।  এতে সরিষার ফুলে মধু সংগ্রহ করতে বসা অন্তত ১ কোটি মৌমাছি মারা গেছে।  সরিষার ফুল থেকে তাদের মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯ টন ছিল। কিন্তু কৃষকদের সচেতনার অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে আমাদের স্বপ্ন।

সরিষা ক্ষেতে ছিটানো হচ্ছে কীটনাশক

মৌ খামারি আফছার আলী বলেন, ৪০০ মৌ বাক্স সরিষা মাঠে বসিয়েছি। প্রতিটি বাক্সে তার ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মৌমাছি রয়েছে। কৃষকদের কীটনাশক ছড়ানোর কারণে অন্তত ২ কোটি মৌমাছি মারা গেছে।

একই এলাকার খামারি মোতালেব হোসেন, আফছার আলী, আব্দুল আহাদের অবস্থাও একই রকম। এদেরও বিপুল পরিমাণ মৌমাছি কীটনাশকের কারণে মারা গেছে।

তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর গ্রামের কৃষক জুলমাত হোসেন বলেন, সরিষার ফলন বাড়ায় ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ক্ষেত্রে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এর ফলে ফলন বাড়বে কিনা তা নিশ্চিত নয়।  তবে তিনি স্বীকার করেন এই বালাই নাশক স্প্রে করার কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে।

সরিষা চাষি জাহাঙ্গীর হোসেন, মান্নান শেখ, জাহিদ হোসেন জানান, সরিষার ফলন বৃদ্ধির জন্য ক্ষেত্রে ভিটামিন জাতীয় কীটনাশক ছিটিয়েছেন। তবে দিনের বেলায় ওষুধ ছিটানোর কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে। কিন্তু এই কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছিগুলো মারা যাবে এটা তাদের জানা ছিল না।

জেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে এই খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছেন। মধু খামারিদের মৌমাছি ভোর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে।  বিকেলে মৌমাছিগুলো তাদের বাক্সে ফিরে যায়।  কৃষকেরা বিকেলে তাদের সষিরা ক্ষেত্রে কীটনাশক ছিটালে মৌমাছির কোনো ক্ষতি হতো না। কৃষকদের অসচেতনতার জন্য এমনটা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যেই সরিষা চাষিদের এ বিষয়ে সচেতন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।  কৃষকদের সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অদিত্য/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়