ঢাকা     সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৩ ১৪২৮ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সবুজ ডগায় কৃষকের স্বপ্ন, আছে স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা 

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:১৭, ১৪ জানুয়ারি ২০২২
সবুজ ডগায় কৃষকের স্বপ্ন, আছে স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা 

আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা রংপুর। চলতি মৌসুমে এই জেলায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের মধ্যবর্তী সময়ে এসে কৃষক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তবে শীত আর ঘন কুয়াশা তাদের কপালে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। হিমাগারে আলু সংরক্ষণ এবং ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাষিরা খেতের বাড়তি পরিচর্যা করছেন। গত মৌসুমে আলু বিক্রি করে খুব একটা লাভ হয়নি। এবার সেই ক্ষতি তারা পুষিয়ে নিতে চান। কিন্তু বাদ সেধেছে কুয়াশা। অতিরিক্ত ঠান্ডা আলু চাষের জন্য উপকারী হলেও কুয়াশা ক্ষতির কারণ বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুলে সরেজমিনে দেখা গেছে, আলুর ছত্রাক আর লেডব্লাইড রোগ ঠেকাতে ওষুধ প্রয়োগ করছেন অনেকে। এ সময় কথা হয় কৃষক মনতাজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘৯০ দিন লাগে জমি থেকে আলু তুলতে। এক একরে প্রায় দশ টন আলু পাওয়া যায়। কেজিতে উৎপাদন খরচ হয় ১২ থেকে ১৪ টাকা। এবার কেজিতে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে।

অনিশ্চিত লাভের আশায় ফলন ঠিক রাখতে তিনি জমিতে পরিচর্যা করছিলেন। ‘বাকিটা আল্লাহ ভালো জানেন’, বলেন তিনি। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী চাষিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েকদিন রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পড়ছে। এটাই দুশ্চিন্তার কারণ। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চলে। ফলে এই চিন্তা সহসা দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানা গেছে।

তবে কৃষি বিভাগ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। চাষিদের উদ্বিগ্ন না হয়ে নিয়মিত ক্ষেত পরিচর্যা করার পরামর্শও দিয়েছে তারা। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান জানান, এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। 

আমিরুল/তারা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়