ঢাকা     বুধবার   ১৮ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৯ ||  ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

একশ ব্রিজ তৈরি করবেন ব্যারিস্টার সুমন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২০, ২২ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৪:৩৪, ২২ জানুয়ারি ২০২২
একশ ব্রিজ তৈরি করবেন ব্যারিস্টার সুমন

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ৩৬তম ব্রিজের উদ্বোধন

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রামগঙ্গা চা বাগানের শ্রমিকদের বসতভিটা থেকে প্রধান সড়কে যাতায়াতের জন্য ছড়ার উপর একটি ব্রিজ না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল শত শত চা শ্রমিকদের। 

১৪ বছর আগে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারিভাবে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও নির্মাণ ত্রুটির জন্য সেটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। এরপর অনেক জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরে শ্রমিকরা যোগাযোগ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সঙ্গে। সুমন তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে একটি কাঠের ব্রিজ তৈরি করে দেন। এতে শ্রমিকদের কষ্ট লাগব হয়। কিন্তু দেড় বছর পর প্রবল বর্ষণে ব্রিজটি ধসে পরে। খবর পেয়ে সুমন সেখানে আরেকটি কাঠের ব্রিজ তৈরি করে দেন। দুই বছর পর সেটিও ভেঙে যায় প্রবল বর্ষণে। এবার আর কাঠ নয় ব্যারিস্টার সুমন ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেখানে তৈরি করেন একটি পাকা ব্রিজ।

শত শত চা শ্রমিকের উপস্থিতিতে শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে উদ্বোধন হয় সেই ব্রিজটি। সেটি সুমনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ৩৬তম ব্রিজ। এর মাঝে ৫টি পাকা এবং ৩১টি হলো কাঠের ব্রিজ। উদ্বোধন করেন ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান নার্গিস আহমেদ।

চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্করের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বশির আহমেদ। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, ইউপি চেয়ারম্যান মুহিতুর রহমান রুমন ফরাজি ও নারী নেত্রী এ্যানি লস্কর বক্তৃতা করেন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ২০১৬ সালে চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ চা বাগানের সিনাইবিলে প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাঠের ব্রিজ তৈরি করেছিলাম। ৩৬টি ব্রিজ করতে আমার কোটি টাকার মত খরচ হয়েছে। ভাঙা রাস্তা মেরামতেও আরও কোটি টাকা খরচ হয়। আমার স্বপ্ন হল ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্তত ১০০টি ব্রিজ তৈরি করা। সুযোগ পেলে প্রমত্তা খোয়াই নদীর উপরও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্রিজ করার ইচ্ছা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষের এই কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি লেখাপড়া ও খেলাধুলার উন্নয়নে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নিজের উপার্জনের অর্থ যতটুকু পরিবারের জন্য প্রয়োজন তার অতিরিক্ত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করাই আমার ইচ্ছা।

প্রধান অতিথি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বশির আহমেদ ব্যারিস্টার সুমনের এই উদ্যম দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং নিজেও এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এতদিন ফেসবুকে দেখেছি ব্যারিস্টার সুমনের ভালকাজ। আর স্বচক্ষে দেখতে হেলিকপ্টারে করে এসে যা দেখেছি তা অতুলনীয়।

মামুন/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়