ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯ ||  ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

সিলেট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ২৬ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৪:৪০, ২৬ জানুয়ারি ২০২২
অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

পড়ুন: ১০ হাজার টাকা দিচ্ছি, পারলে আমাকে অ্যারেস্ট করুক: জাফর ইকবাল

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

মঙ্গলবার রাত ৩টা ৫৪ মিনিটে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আসেন। এরপর ৪টার দিকে তিনি অনশনস্থলে যান। সেখান গিয়ে তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘জীবন অনেক মূল্যবান, তুচ্ছ কারণে জীবন অপচয় করো না। তোমাদের বাঁচতে হবে। তোমরা ইতোমধ্যেই বিজয়ী হয়ে গেছ। সারা দেশের মানুষ তোমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তোমাদের দাবি পূরণ হবে। তোমাদের উসিলায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঠিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাসায় উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তোমাদের দাবি পূরণ হবে। তাই দেরি না করে আমরা চলে এসেছি। তোমাদের অনশন না ভাঙিয়ে যাব না।’

এর আগে শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ ও দাবি শোনেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর একটা স্মারকগ্রন্থে আমার কাছে একটা লেখা চেয়েছিল। সেই লেখাটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে ১০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে। আমি এই সম্মানীর টাকাটা নিয়ে এসেছি। এই আন্দোলনের ফান্ডে এই টাকাটা দিচ্ছি। তোমরা রাখো। এবার পারলে আমাকে অ্যারেস্ট করুক।’

এরপর মুহম্মদ জাফর ইকবাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি চরম অমানবিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে এবং তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। 

পরে এই আন্দোলন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৯ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। 

পড়ুন: জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভাঙছেন শিক্ষার্থীরা

/নূর/এসবি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়