ঢাকা     বুধবার   ১৮ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৯ ||  ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

শাবি ক্যাম্পাসে অবরোধ প্রত্যাহার, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

সিলেট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:৫১, ২৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ০১:৫৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২২
শাবি ক্যাম্পাসে অবরোধ প্রত্যাহার, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রধান ফটক, ভিসির বাসভবনের ফটকসহ অন্যান্য ফটকের অবরোধ তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার রাত পৌনে ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন রোমিও নিকোলাস রোজারিও।

এসময় তিনি বলেন, ‘ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী টানা ১৬৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট যাবত অনশনরত থাকার পর অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এবং ড. ইয়াসমিন হক ম্যামের অনুরোধে অনশন থেকে সরে আসে। আমরণ অনশন কর্মসূচি থেকে সরে আসার মূল কারণ ছিল আমাদের এক দফা দাবি মেনে নেয়া হবে এ আশ্বাস। তবে সাথে সাথে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি যে আপাতত অনশন থেকে সরে আসা হলেও ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে বুধবার সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেয়া অধ্যাপক জাফর ইকবালকে মাধ্যম উল্লেখ করে ৫টি দাবি করে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থদানের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন সাবেক শাবি শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে, অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, অনশনকারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ১৬ই জানুয়ারি ভিসির মদদে সংঘটিত নারকীয় পুলিশি হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রোমিও নিকোলাস রোজারিও আরও বলেন, আমাদের মূল দাবি ভিসি প্রত্যাহার এবং এরই সাথে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণের দায়িত্ব শ্রদ্ধেয় জাফর স্যার এবং ইয়াসমিন ম্যাম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিয়েছেন। একই সাথে ক্যাম্পাসের সমস্ত আবাসিক হল যা বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে সচল রেখেছে সেগুলোও পুরোদমে চালু হবে। জাফর স্যার এবং ইয়াসমিন ম্যামের অনুরোধে শীঘ্রই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এবং ভিসির বাসভবনের সামনে থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বরাবরের মত ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের দখলে থাকবে এবং ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে শব্দ চয়ন সংক্রান্ত যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করেন এবং ভিসির দায়িত্বপালনকালে শিক্ষার্থীদের যে অসন্তোষ তা প্রকাশকালে তাদের মুখ থেকে উচ্চারিত কোন কথা কাউকে আঘাত দিয়ে থাকলে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন৷ এই আন্দোলন কেবল এবং কেবলমাত্র ভিসির পদত্যাগের বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

এছাড়া ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

নূর/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়