ঢাকা     সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৯ ||  ২৯ সফর ১৪৪৪

‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েই বাঘটি মারা যায়’

রফিক সরকার, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৫, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২  
‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েই বাঘটি মারা যায়’

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে একটি বাঘ

গাজীপুরের শ্রীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১টি জেব্রা ও ১২জানুয়ারি একটি বাঘের মৃত্যু হয়। বেস্টনিতে থাকা অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে মারামারি ও ব্যাকটেরিয়ায় জেব্রার মৃত্যুর কথা জানালেও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে বাঘের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

পিসিআর টেস্টে বাঘটির মৃত্যুর কারণ তীব্র ও গুরুতর সংক্রামক ওই রোগটিই বলে নিশ্চিত হন সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা।

জেব্রা ও বাঘের মৃত্যু ঘটনা জানতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি ও ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।

পিসিআর ল্যাবের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ঢাকার কেন্দ্রীয় পশু হাপসপাতালের সাবেক প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার ও ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ্ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে বাঘটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১২ জানুয়ারি বাঘটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত পার্কের ভেতরই সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকালে আলামত দেখেই ওই চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে বাঘটির মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্সে হয়েছে বলে পার্কের কর্মকর্তাদের সতর্ক হওয়ার জন্য বলেছিলেন।

বাঘের মৃত্যু প্রসঙ্গে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, বাঘটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত করেছিলেন ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ্। মৃত্যুর আলামত দেখে তিনি তখনই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। এরপর মৃত বাঘটির প্রথম রিপোর্টের ফলাফলে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক পুনরায় টেস্টের জন্য বলেন। একইসঙ্গে আরটি-পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করতেও পরামর্শ দেন। পরে দ্বিতীয় টেস্টেও বাঘটির মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স রোগই ধরা পড়ে।

সবশেষ ৩ ফেব্রুয়ারি পাওয়া পিসিআর ল্যাবের টেস্টেও অ্যানথ্রাক্সে শনাক্তের বিষয়টি ধরা পড়ে।

যেভাবে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে বাঘ
অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়া বিষয়ে ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ্ জানান, বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে বাঘটি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো খাদ্যে সংক্রমণের মাধ্যমে। বিদেশের পার্কগুলোতে বাঘকে ঘোড়া অথবা হরিণ খেতে দেওয়া হয়। সাফারি পার্কে বাঘকে গরু খেতে দেওয়া হয়। খাবারে ব্যবহার করা গরুটি যদি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে থাকে আর অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস যদি বাঘকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে বাঘের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ছড়াতে পারে। শরীরের কাটা ছেড়া অংশ দিয়ে, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও অ্যানথ্রাক্স ছড়াতে পারে। এছাড়া পার্কে বড় মাছি পাওয়া যায়। ওই মাছির কামড়ে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার নজির থাকলেও, বাঘটি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার কারণ এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

অ্যানথ্রাক্স ছড়ানো ঠেকাতে ব্যবস্থা
মৃত বাঘটিকে মাটি চাপা দেওয়ার ৭ থেকে ১০দিন পর পাশাপাশি থাকা অন্যান্য প্রাণীদের অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া খাবারের সাথে এন্টিবায়েটিক দেওয়া হচ্ছে।  জেব্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। টেস্টের চূড়ান্ত রেজাল্ট আসার পরই প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। আপাতত যে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী প্রাণীগুলোকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তবে অন্য প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেন, মৃত বাঘটিকে অসুস্থ হওয়ার আগেই আলাদা কক্ষে আটকিয়ে রাখা হতো এবং অসুস্থ অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হতো। তাই এতে কোন অন্য প্রাণীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বা আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নাই।

/রফিক/এসবি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়