ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

কুড়িগ্রামে নদীর পানি বৃদ্ধি, ফসল নষ্টের আশঙ্কা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ১১ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ২০:৩০, ১১ এপ্রিল ২০২২
কুড়িগ্রামে নদীর পানি বৃদ্ধি, ফসল নষ্টের আশঙ্কা

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে বোরো ধান, পেয়াজ, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত। নিচু এলাকার পুরো ক্ষেতের ফসল নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষক। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নতুন করে উজানের ঢল না আসলে এবং বৃষ্টিপাত কমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমতে পারে।

চৈত্র মাসে অসময়ে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী চরে বোরো ধান, পেঁয়াজ, ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। অসময়ে পানি চলে আসায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তার চরের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চরের জমিতে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে গেছে। 

চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, চরের জমিতে মরিচ, পটল, ঝিংঙা চাষ করেছেন। অসময়ের পানিতে তলিয়ে শেষ হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ধরলার পাড়ের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, এক একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। সব তলিয়ে গেছে। সামান্য কিছু কেটে আনতে পেরেছেন। বাকি সব পানির নিচে। 

বোরো ধান পুরোপুরি না পাকলেও নদ-নদীর অববাহিকার অনেক কৃষক গরুর খাদ্যের জন্য পানিতে তলিয়ে থাকা আধা পাকা ধান কেটে ঘরে আনছেন। সার, কীটনাশক, বীজসহ অনেক টাকা খরচ করে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেক কৃষকের।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, জেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় ৬০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়েছে। তবে উজানের পানি আসা কমে গেলে এবং বৃষ্টিপাত কম হলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।  
 

বাদশাহ/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়