ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯ ||  ১২ মহরম ১৪৪৪

সমুদ্রসৈকতে পরিবার নিয়ে ইফতার

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২২  
সমুদ্রসৈকতে পরিবার নিয়ে ইফতার

সারা দিন রোজার পরে শেষ বিকেলে ইফতারের সময়টা স্বস্তিকর পরিবেশে কাটাতে চায় সবাই। দিনের রৌদ্রতেজের আবহ কেটে মৃদু হাওয়া ও সমুদ্রঢেউয়ের সুর শুনে ইফতার করার জন্য অনেকে ছুটে যায় সমুদ্রসৈকতে। কেউ কিটকট/ছাতা চেয়ারে, কেউ কেউ সৈকতের বালিয়াড়িতে মাদুর বিছিয়ে ইফতারের আয়োজন করে। ইফতারিতে থাকে হরেক রকমের ফলমূল, জুস-শরবত আর চিরাচরিত ছোলা বুট।

আসরের নামাজের পরপরই নানা শ্রেণিপেশার মানুষ প্রিয়জনদের নিয়ে ইফতার করতে হাজির হয় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। সাগরের বিশলতা দেখতে দেখতে প্রিয়জনের সঙ্গে ইফতারের পাশাপাশি মনের অনুভূতি প্রকাশ করে তারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও সৈকতে ইফতার করতে দেখা যায়।

পছন্দের ফলমূল, তরমুজ, আনারস, আপেল, কমলা, আঙুর, পেঁপে, বাঙ্গি, নাসপাতি, পিয়াজু, আলুর চাপ, বেগুনি, খেজুর, বুরিন্দা, জিলাপি, মুড়ি, আখের গুড়ের শরবত, লেবুর শরবত, বেলের শরবত ব্যাগে করে সৈকতে আনে তারা। 

খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ইফতারের নানা আইটেম সাজিয়ে মাইকে আজানের ধ্বনির অপেক্ষা করে রোজাদাররা।

সমুদ্রসৈকতে ইফতার করতে আসা দম্পতি তানভীর ও মাহমুদার সঙ্গে কথা হয়। চাকরীজীবী তানভীর শরীফ বলেন, 'সারা দিন সিয়াম সাধনার পর প্রকৃতির সঙ্গে মিশে বিশাল খোলা আকাশের নিচে ইফতার করাটা অনেকটা স্বর্গীয়। সমুদ্রের পাশে ইফতারে কেন যেন স্রষ্টার কাছে মন খুলে চাওয়া যায়। আসলে সমুদ্রের বিশালতা দেখে মনটাও তখন বিশাল হয়ে যায়।’ 

বন্ধুদের নিয়ে সৈকতে ইফতার করতে আসা ইমরুল কায়েস বলেন, 'রোজার দিনে রোদের তাপে ক্লান্ত হয়ে গেলে সমুদ্রসৈকতে নির্মল পরিবেশে ইফতার করতে মন চায়। কখনও পরিবারের সঙ্গে, কখনও বা বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে সৈকতে ছুটে আসি। কোলাহলমুক্ত সৈকতের বৈকালিক পরিবেশ অনেক সুন্দর। ভালো লাগে তাই সুযোগ হলেই ইফতারের নানা আইটেম নিয়ে চলে আসি।’ 

শিক্ষক সজিবুল আলম বলেন, ‘প্রতি বছর একবার হলেও সমুদ্রসৈকতের বালুচরে ইফতার করা হয়। বলতে গেলে এটি আমার পরিবারের জন্য প্রতিবছরের রুটিন হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়েরা এবার রমজানেও ছাড় দিতে চায়নি। তাদের নিয়ে বালুকাময় সৈকতে ইফতার করতেই হবে।  তাই পরিবার নিয়ে ইফতার করতে চলে এলাম পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে।’ 

ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক শামীম-শিরিন দম্পতি বলেন, ‘অন্যান্য সময় না এসে এবার রমজানে বেড়াতে এলাম কক্সবাজারে। রমজানের সময় পরিবেশ শান্ত থাকে। সমুদ্রের পরিবেশটাও ভালো থাকে। তাই রমজানে এখানে এসে সৈকতে ইফতার করাটা অনেক আনন্দের। এছাড়াও সাগরের বিশালতা দেখে ইফতার করতে ভালো লাগে। তাই নানা রকমের ইফতারি নিয়ে ছুটে এলাম সৈকতে।’

সমুদ্রসৈকতে ইফতার করতে আসা রোজাদারদের নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। 

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারে জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমদ জানান, পর্যটকসহ স্থানীয় অনেক লোকজন সাগরপাড়ে ইফতার করতে আসে। এটা আগে দেখা না গেলেও বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের সঙ্গে অনেকে ইফতার করতে সমুদ্রসৈকতে চলে আসে। পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় সজাগ রয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ রয়েছে। পর্যকটদের সেবায় নিয়োজিত তারা। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা লোকজনের সুবিধা-অসুবিধা সবসময় দেখভাল করছেন তারা। 
 

/বকুল/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়