ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

মৌলভীবাজারে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৫৭, ১১ মে ২০২২   আপডেট: ১৪:২৮, ১২ মে ২০২২
মৌলভীবাজারে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃথিমপাশায় ১২ বছরের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রকে শিক্ষক বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে। বলাৎকারের শিকার শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রতিদিনের মতো শিক্ষকের কাছে পড়তে প্রতিবেশী বিরনের বাড়িতে যায় তার ছেলেটি। সেখানে ৬ মাস থেকে প্রতিদিন ৬ জন ছাত্র পড়লেও মঙ্গলবার রাতে দুজন পড়তে আসে। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক মালিক মিয়ার (২৪) চাচাত বোন ও ওই ছেলেটি পড়তে যায়। সেখানে শিক্ষক ছেলেটিকে তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর ছেলেটিকে রাজা ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করে রক্তাক্ত করে। ছেলেটি কোনোরকমে বাড়িতে এসে ঘরের বাহিরেই পড়ে যায়।

এসময় ছেলেটির মা ও বোন মিলে ছেলেটিকে ঘরে নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করে দেখতে পান তার পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত ঝরছে, তার পরনের শার্ট ও প্যান্ট ছিড়া। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারেন প্রাইভেট পড়ানো হুজুর একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে মালিক তার সাথে খারাপ কাজ করেছে। সাথে সাথে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে জানিয়ে আত্মীয়-স্বজন মিলে ছেলেটিকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

রাত দেড়টার দিকে সেখানে ভর্তি হয়ে বর্তমানে ছেলেটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাকারী মালিক মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতো বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ছেলেটির মা বলেন, ‘যেভাবে তার ছেলের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে, সেভাবে হুজুরের শরীর থেকেও যেন রক্ত ঝরে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। এভাবে যেন আর কোনো মায়ের সন্তান নির্যাতনের শিকার না হয়।’

তিনি আরও জানান, তার স্বামী থানায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বিনয় ভূষন রায় জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

হামিদ/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়