ঢাকা     শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯ ||  ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে স্ত্রী-ছেলেসহ প্রাণ হারালেন ডা. বাসুদেব

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ১৪ মে ২০২২  
অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে স্ত্রী-ছেলেসহ প্রাণ হারালেন ডা. বাসুদেব

নিহত ডা. বাসুদেবের বাড়িতে শোকার্ত স্বজনরা

মা শিখা রানি সাহার বয়স ৭৫। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজতির কারণে অসুস্থ হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী। অসুস্থ মাকে দেখতে শনিবার (১৪ মে) সকালে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে গোপালগঞ্জে উদ্দেশে রওনা হন বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক বাসুদেব সাহা। আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও ছেলেসহ প্রাণ দিতে হলো তাকে। সঙ্গে মারা যান তাদের প্রাইভেটকারের চালকও। 

নিহতরা হলেন, বাসুদেব সাহা, স্ত্রী শিবানী সাহা, ছেলে আহসানাউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপলী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র স্বপ্নিল সাহা ও প্রাইভেটকারের চালক ঢাকার আদাবর থানার দোয়ারী এলাকার আব্দুল রশিদ মিয়ার ছেলে মো. আজিজ মিয়া।

বাড়ি থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে থাকতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসায় পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে ওই চিকিৎসকের বন্ধু, আত্মীয়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে ভিড় করেন। 

তাৎক্ষণিকভাবে ডা. বাসুদের সাহার অসুস্থ মাকে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়নি। তার বাবা সাবেক কমিশনার প্রফুল্ল কুমার সাহাকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন তিনি। 

বাবা প্রফুল্ল কুমার সাহা বলেন, ওর মা শয্যাশায়ী। অসুস্থ মাকে দেখার জন্য সকালে ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে করে গোপালগঞ্জে আসছিল। আসার পথেও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন বাসুদেব বললো— অল্প সময়ের মধ্যে চলে আসবে। 

প্রফুল্ল কুমার সাহা আরও বলেন, ‘‘এর কিছুক্ষণ পর বাসুদেবের মেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নি চিকিৎসক শর্মি সাহা আমাকে ফোন দিয়ে জানায় ভিডিও কলের মাধ্যমে তার মা- বাবার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কথা বলার মধ্যে বিকট শব্দে ভিডিও কল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তার মা ও বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। এই কথা বলে শর্মি আমাকে খবর নিতে বললো। এরপর আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেই। তখন জানতে পারি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা।’ 

ডা. বাসুদেব সাহার বাল্যবন্ধু এম বদরুল আলম নাসিম বলেন, ডা. বাসুদেব সাহা ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছাত্র ও ক্রীড়াবিদ ছিলেন। ভালো ফুটবল খেলতেন। তার মতো ভালো মানুষ পাওয়া যাবে না। তার কর্মস্থলে গোপালগঞ্জ থেকে কেউ গেলে তিনি সব কাজ ফেলে তাকে সময় দিতেন। খুব আন্তরিক ছিলেন তিনি। তার এ অকাল মৃত্যুতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। 

প্রতিবেশী তুষার কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘মহাসড়কের উপর ধান মাড়াই করার কারণে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। আজকের দুর্ঘটনাও সড়কের উপর ধান মাড়াই করার কারণে ঘটেছে। আমরা এর প্রতিকার চায়। যাতে আর কোনো জীবন এভাবে অকালে ঝরে না যায়।’ 

আজ শ‌নিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই প‌রিবারের ৫ জনসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও অন্তত ২৫ জন।

বাদল/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়