ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

চলন্ত বাসে লাফিয়ে উঠে ডাকাত ধরলেন এসআই

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:১৪, ১৭ মে ২০২২  
চলন্ত বাসে লাফিয়ে উঠে ডাকাত ধরলেন এসআই

বাঁয়ে ডাকাত সন্দেহে একজনকে গণধোলাই, ডানে এসআই হেলাল

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দ্রুত গতিতে ছুটে চলছিল যাত্রীবাহী এক বাস। হঠাৎ সেই বাস থেকে এক নারীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বাসের যাত্রীরাও ডাকাত ডাকাত করে চিৎকার করতে থাকেন। সড়কে দায়িত্বরত অবস্থায় সেটি দেখে ফেলেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠে পড়েন সেই বাসে। ধারালো ছুরি হাতে রাখা ডাকাতকে ধরে ফেলেন তিনি। পুলিশ সদস্যের এ সাহসিকতায় বেঁচে যায় প্রায় ২০-২৫ জন যাত্রী। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য ও তিন যাত্রী আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৬ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নবীনগর এলাকায় সেনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ও ডাকাত সন্দেহে আটক ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক যুবক। বাস থেকে লাথি দিয়ে ফেলা দেওয়াসহ মারধরে আহত হয়েছেন আরেক নারী যাত্রীসহ দুই জন। এ ছাড়া পুলিশের এক সদস্য এক ডাকাতকে আটক করতে গিয়ে সামান্য আহত হয়েছেন। আহত তিন যাত্রীকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাসের যাত্রী মনির হোসেন বলেন, ‘বাসে ২০-২৫ জন যাত্রী ছিল। এক মহিলাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। আরেকজনকে পায়ে কোপ দিয়ে কেটে ফেলেছে। তার গলায় ছুরি ধরেছিল। বলেছে, টাকা না দিলে কেটে ফেলবে। পরে এক ডাকাতকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। বাসটা তখন পালিয়ে গেছে। বাসের স্টাফরা ডাকাতির সাথে জড়িত। না হইলে বাস পালালো কেন?’

বাসের আরেক যাত্রী বলেন, ‘বাসটা সাভার যাবে। আমি বাইপাইলে উঠেছি, সাভার থানা স্ট্যান্ড নামবো। দেখি যে, কয়েকজন লোক একসাথে উঠছে। এরপর বাস নবীনগরে সেনা মার্কেটের সামনে গেলে একজন লাফ দিয়া ছুরি নিয়া ড্রাইভারের কাছে বসে। বলে যে, ওস্তাদ গাড়ি দাঁড় করাবেন না। না হলে একদম মাইরা দিমু। পরে আমি ভাবভঙ্গি দেইখা বাস থাইকা লাফ দিছি। পরে একটা মহিলা নামবে তারে এমন জোরে একটা লাথি মারছে। বেটি মনে হয় বাস থাইকা বাইরে ২০-২৫ ফুট নিচে গিয়া পড়ছে। হ্যার পা ভাইঙা গেছে। আরেক যাত্রীর পায়ে কোপ দিয়া রগ কাইটা দিছে। তাগো হাসপাতালে নিয়া গেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান খান মনির বলেন, আমি সেনা মার্কেটের সামনে দাঁড়ায় ছিলাম। তখন এক মহিলাকে বাস থেকে ফেলা দেওয়া হয়েছিলো। ওই সময় বাসের যাত্রীরা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিলো। এসময় মার্কেটের সামনে ট্রাফিক পুলিশের এসআই হেলাল ডিউটি করছিলেন। তিনি মহিলাকে ফেলে দেওয়া দেখে দ্রুত একাই বাসে উঠে গিয়ে ছুরি হাতে থাকা একজনকে জাপটে ধরেন। ডাকাতের সাথে ধস্তাধস্তির সময় ওই এসআই সামান্য আহতও হন। এসময় বাকি ডাকাত সদস্যরা তখন দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত জনতা ওই ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের এসআই আসলাম তাকে আটক করে নিয়ে যান।

তবে এ বিষয়ে সাভার ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হেলালের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে চার্জ না থাকায় তার ফোনটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসলামুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ওখানে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার একজনকে পাই। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীরা বলেছে, ছুরি হাতে ছিনতাইকারী বা ডাকাত সদস্যরা তাদের আক্রমণ করেছিলো। এখনও ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারিনি। এঘটনায় বাসটিও জব্দ করা যায়নি।’

আরিফুল ইসলাম/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়