ঢাকা     রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১২ ১৪২৯ ||  ২৫ জিলক্বদ ১৪৪৩

‘ভালো ছাত্র’ হওয়াই কি অঙ্কনের মৃত্যুর কারণ 

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪০, ১৯ মে ২০২২   আপডেট: ১৭:৪৬, ১৯ মে ২০২২
‘ভালো ছাত্র’ হওয়াই কি অঙ্কনের মৃত্যুর কারণ 

বাবা মা’র সঙ্গে অঙ্কন

মুন্সীগঞ্জে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত স্কুলছাত্র অঙ্কন দত্ত (১৭) মারা গেছেন।

১ মাস ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত অঙ্কন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ুলপাড়া এলাকার নির্মল দত্তের ছেলে। এ ঘটনায় নির্মল দত্ত অঙ্কনকে ‘ভালো ছাত্র’ উল্লেখ করে তার সহপাঠীদের প্রতি অভিযোগ এনেছেন। জেলা শহরের কে. কে. গভ. ইন্সটিটিউট থেকে এ বছর বিজ্ঞান শাখায় অঙ্কনের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। 

নিহতের স্বজনেরা জানান, গত ৭ এপ্রিল বিকেলে প্রাইভেট পড়া শেষে মুন্সীগঞ্জ শহরের ডিসি পার্কে ঘুরতে যায় অঙ্কন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কে বা কারা চেতনানাশক ব্যবহার করে অঙ্কনকে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ছুরিকাঘাত করে তার স্কুলের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।  

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার অফসার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক।

এ দিকে, নিহতের চাচা রূপক দত্ত বলেন, অঙ্কন দত্তকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিল। ঈদের আগে অঙ্কন কিছুটা সুস্থ হলে আমরা বাসায় নিয়ে আসি। কিন্তু কয়েক দিন আগে তার অবস্থা আবারও খারাপ হয়। তখন আমরা তাকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানেই অঙ্কনের মৃত্যু হয়। 

নির্মল দত্ত বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো স্টুডেন্ট ছিল। এ নিয়ে ওর ক্লাসের কয়েকটা ছেলে হিংসা করতো। এই ঘটনার সঙ্গে অঙ্কনের সহপাঠীরা জড়িত। আমি তাদের বিচার চাই।’ 

‘দেড় মাস ছেলেটা অসুস্থ ছিল’ উল্লেখ করে নির্মল দত্ত বলেন, ‘ওর খাদ্য নালি কেটে গিয়েছিল। ভেতরে ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিল। আসামিরা যে বয়সের, যারাই হোক, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’

স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার মুন্সী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেড় মাস আগে ছেলেটিকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হলো। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারলো না। কাউকে শনাক্ত করতে পারলো না। অবশেষে ছেলেটি মারা গেল। দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে যেদিন ছুরিকাঘাত করা হয় তখন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়। আজ ছেলেটি মারা গেছে। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ছাড় পাবে না। পুলিশ কাজ করছে।’ 
 

রতন/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়