ঢাকা     বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২২ ১৪২৯ ||  ০৬ জিলহজ ১৪৪৩

ফজলি আম চাঁপাই নাকি রাজশাহীর, আজ শুনানি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৭, ২৪ মে ২০২২   আপডেট: ১০:২৯, ২৪ মে ২০২২
ফজলি আম চাঁপাই নাকি রাজশাহীর, আজ শুনানি

রাজশাহীর ফজলি আমকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় ফুঁসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ। তাদের দাবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আমকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। 

রাজশাহীর ফজলিকে দেওয়া জিআই পণ্যের বিরোধিতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পক্ষে নিবন্ধনের দাবিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিজাইন, পেটেন্ট ও ট্রেড মার্কস বিভাগে একটি আপত্তি দাখিল করা হয়েছে। এ আপত্তি দাখিল করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃষি অ্যাসোসিয়েশন নামের এক সংগঠন। ফলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওই বিভাগটি এই আপত্তির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে আজ ২৪ মে উভয়পক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সংশ্লিষ্টরা জানান, গৌড়ের অংশ হিসেবে সেই সুখ্যাতির পরিপূর্ণ অধিকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৮০০ সালের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন গৌড়ে ফজলবিবি নামে এক বৃদ্ধা বাস করতেন। সেই সময় মালদহ জেলা কালেক্টর রাজভেনশ সরকারি কাজে গৌড়ে আসেন ও বৃদ্ধার বাড়ির কাছে শিবির স্থাপন করেন। কালেক্টরের আগমন বার্তা শুনে বৃদ্ধা কালেক্টরের জন্য উপঢৌকন হিসেবে তার বাড়ির আঙিনার আমগাছের আম উপহার দেন। কালেক্টর আম খেয়ে তৃপ্ত হয়ে বৃদ্ধাকে সেই আমের নাম জানতে চান। বৃদ্ধা ইংরেজি বুঝতে না পেরে তার নিজের নাম বলেন। সেই থেকে আমটির নামকরণ হয় ‘ফজলি’। আমটির স্বাদে আকৃষ্ট হয়ে ফজলি বিবির নামানুসারে এ আমটির নাম হয় ফজলি। যার উৎপত্তি বর্তমান গৌড়ীয় অঞ্চল সোনামসজিদ ও ভোলাহাট এলাকায়। 

দেশের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে উৎপাদিত মোট আমের এক চতুর্থাংশ চাপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেই উৎপাদিত হয় । এ জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৪ লাখ টন আম উৎপাদিত হয় যার শতকরা ২৩ ভাগ বা প্রায় ৮৮ হাজার টন ফজলি আম উৎপাদিত হয়। অপরদিকে রাজশাহী জেলায় ফজলি আম উৎপাদন হয় মাত্র ২৮ হাজার টন। সারা দেশের উৎপাদিত ফজলি আমের ৫৬ ভাগ আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের। আর ১৮ ভাগ রাজশাহীতে উৎপাদিত হয়।

গবেষক জাহাঙ্গির সেলিম জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যেহেতু চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই সুবাদেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বলে দাবি করে।  চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানা হচ্ছে রেশমের সুতিকাগার এবং সমগ্র দেশের ৬০ শতাংশ রেশম সুতা সেখানে উৎপাদিত হয় এবং শিবগঞ্জ উপজেলার হরিনগর লাহারপুরের তাঁতে বোনা রেশম বস্ত্র দেশখ্যাত। কিন্তু রাজশাহী শহরে পাওয়ারলুম বসিয়ে রেশমনগরী করে রেশমের জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছে রাজশাহী। একই কায়দায় ফজলির কোন জাত না থাকলেও বাঘা ফজলি নামে জাত দাবি করে আবারো রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আমকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহীর পক্ষে জি আই সনদ না দিতে আপত্তিদানকারী মুনজের আলম জানান, ১৮০০ সালের দিকে চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন গৌড়ে ফজলির চাষ শুরু হয় এবং বিশাল আকৃতির অসংখ্য আমগাছ তারই সাক্ষী। শুধু তা-ই নয়, বাস্তবে একটি প্রমাণ দিলে আরও স্পষ্ট হবে। যে কোনো ভোক্তার সামনে যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর ফজলি আম রাখা যায় তা হলে ভোক্তা প্রথমেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আমই বেছে নেবে। তাই জি আই সনদ আমাদেরই হওয়া উচিত।

মেহেদী/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়