ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৬ ১৪২৯ ||  ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩

প্রকৌশলীর মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা!

চাঁদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:৩২, ২৭ মে ২০২২   আপডেট: ০৮:০৩, ২৭ মে ২০২২
প্রকৌশলীর মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা!

নিহত সুব্রত সাহা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ‘ছাদ থেকে পড়ে’ মারা গেছেন চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়ার ছেলে প্রকৌশলী সুব্রত সাহা (৫২)। তবে মৃত্যুর এ ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা— সেটাই এখন রহস্যময়। এমনকি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশও বিষয়টি নিশ্চিত হতে না পেরে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুব্রত সাহার লাশ উদ্ধার করে। ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) রাত মরদেহ চাঁদপুরের কোড়ালিয়া সাহা বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে নেওয়া হয় মহাশ্মশানে। সেখানেই শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

নিহতের বড় ভাই রতন সাহার দাবি— সুব্রতকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, হোটেলের ছাদ থেকে নিচে পড়লে শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকবে। কিন্তু আমার ভাইয়ের শরীরে এ ধরনের কোনো আলামত দেখা যায়নি। তাই এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছি।

কোড়ালিয়া সাহা বাড়ির প্রয়াত পরেশ সাহার ৭ ছেলের মধ্যে প্রকৌশলী সুব্রত সাহা ছিলেন ষষ্ঠ। সুব্রত রাজধানীর হাতিরপুলে সপরিবারে থাকতেন। তার স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে— সে বিষয়ে পুলিশ এবং তার পরিবারের সদস্যরা কেউ কিছু বলতে পারছে না।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে; ১১ তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়। তবে তিনি নিজে লাফিয়ে পড়েছেন, নাকি কেউ ধাক্কা দিয়েছে— সে বিষয়টিই পুলিশ তদন্ত করছে। এ ব্যাপারে হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া হোটেলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। 

এদিকে, প্রকৌশলী সুব্রত সাহাকে হত্যা করা হয়েছে— এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) রাতে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার আরেক বড় ভাই স্বপন সাহা। মামলায় অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। 

স্বপন সাহা বলেছেন, সুব্রতকে তার কর্মস্থলে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া হয়েছে। সে প্রকৌশলী হিসেবে প্রায় ২০ বছর কাজ করেছে। এক বছর ধরে তাকে নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি হিসাব বিভাগে কাজ করতে হচ্ছিল। এ নিয়ে তার মধ্যে হতাশা ছিল। কর্মস্থলে কারো সঙ্গে তার দ্বন্দ্বও থাকতে পারে। সুব্রতকে পরিকল্পিতভাবে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, সুব্রত সাহা বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপক পরিচালক হিসেবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে হোটেলে প্রবেশ করেন। লিফটে ১১ তলায় যান। এরপর থেকে তার কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হোটেলে প্রবেশ পথের বর্ধিত অংশের দোতলার ছাদে তার নিথর দেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। ঐ সময় তার পরনে ছিল সাদা রঙের স্ট্রাইপ শার্ট ও নীল রঙের প্যান্ট। 

‘পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ রমনা থানা পুলিশকে খবর দিলে আমরা সেখানে পৌঁছে আইনানুগ কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু ততক্ষণে অনেক লম্বা সময় অতিবাহিত হওয়ায়— এ বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না।’

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, নিহতের বড় ভাই স্বপন সাহা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে। পরে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অমরেশ দত্ত/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়