ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে ভাঙন অব্যাহত, বাঁধ নির্মাণের দাবি 

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫০, ১৯ জুন ২০২২   আপডেট: ১১:৩২, ১৯ জুন ২০২২
গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে ভাঙন অব্যাহত, বাঁধ নির্মাণের দাবি 

ইসমানীরচরে নদী ভাঙনে দিশেহারা এলাকাবাসী

মেঘনা নদীতে পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানির চরসহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। এদিকে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

মেঘনা নদীর গজারিয়া অংশের সবচেয়ে ভাঙন কবলিত এলাকা হলো ইসমানির চর, হোসেন্দী, নয়নাগর, গোয়ালগাঁও ও চর বলাকী। প্রায় প্রতি বছরই এসব এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার সেলিম খান জানান, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে শনিবার (১৮ জুন) উপজেলার ইসমানীরচর গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধনে ও প্রতিবাদ সমাবেশে করেছেন। গভীর রাত পর্যন্ত তাদের এই সভা-সমাবেশ চলে। পরে খবর পেয়ে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ।

তিনি আরো জানান, কয়েকদিন ধরে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসমানির চর এলাকায় এখন ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন যদি এই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে ইসমানিচরসহ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নদী ভাঙন রোধে প্রশাসনের দ্রুত হস্থক্ষেপ কামনা করছি আমরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন থেকে বাঁচতে তারা বসতঘরসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রতিবছর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন তৎকালীন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান সাদীসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। সে সময় তারা বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি । 

তারা আরো জানান, নির্বাচন আসলে জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সব সমস্যা সমাধান করে দেবেন এমন কথা বলে ভোট চান। নির্বাচনে পাস করার পর তাদের আর চোখে দেখি না। তারা নাকি বড় বড় বিল্ডিং বানাইয়া শহরের আলিসান বাড়িতে থাকেন। আমাগো খবর কেও নেয় না। 

নদী ভাঙনে সহায় সম্বল হারানো ৭৮ বছরের বৃদ্ধা করিমন নেছা জানান, ‘এই গ্রামে স্বামীর ভিটা ছিল। নদীতে তা বিলীন হয়ে গেছে। তাই সুযোগ পেলে এখানে আসি।’

জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে মেঘনা তীরবর্তী গ্রামগুলো একটু একটু করে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ২০২০ সালে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। মেঘনার ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইসমানিচরের মানুষজন। ইতোমধ্যে এই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছে ২০০ পরিবার। যারা আছেন তারাও প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্য দিন-রাত পার করছেন। ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হোসেন্দী থেকে গোয়ালগাঁও পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা নদীতে হারিয়ে যাবে।

২০২০ সালে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছিলেন, কয়েক বছর পর বাংলাদেশের কোথাও নদী ভাঙ্গন থাকবে না। সে সময় উপমন্ত্রী গজারিয়ায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী ভাঙন কবলিত দেড় কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষামুলক বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গত বছরও আমরা ওই এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনও ছিল। তারা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। এবারও বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছ।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙন রোধে এখন সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। বর্ষার পরে এলজিইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’

রতন/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়