ঢাকা     বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২২ ১৪২৯ ||  ০৬ জিলহজ ১৪৪৩

টাঙ্গাইলে বাড়ছে গরুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ২৩ জুন ২০২২   আপডেট: ১৮:০২, ২৩ জুন ২০২২
টাঙ্গাইলে বাড়ছে গরুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত একটি গরু

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে গরুর ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ।’ ইতোমধ্যে ভাইরাসজনিত এই রোগটি বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগে গরুর চামড়ার ক্ষতি হওয়ায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। তবে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

প্রাণিসম্পদ সার্জন, খামারি ও সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুতে মশা-মাছির বিস্তারের সময় ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ ব্যাপক আকারে দেখা দেয়। মশা-মাছি এবং খাবারের মাধ্যমে এক এক গরু থেকে অন্য গরুতে এ রোগটি ছড়ায়। ভ্যাক্সিন দিয়ে গরুকে এ রোগ থেকে রক্ষা করা যায়।িএছাড়া আক্রান্ত গরুকে অন্য গরু থেকে আলাদা করে মশারির ভেতরে রাখা জরুরি।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগের লক্ষণগুলো হল- গরুর গা হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়া, শরীরজুডড়ে ছোট ছোট মাংসপিন্ডের মতো ফুলে ওঠা, চামড়া উঠে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হওয়া এবং এ রোগে আক্রান্ত গরুর খাবার খাওয়া ছেড়ে দেওয়া। এই রোগটিতে মারা যাওয়ার হার ১-৩ শতাংশ।

সদর উপজেলার ছোট বাসালিয়া গ্রামের শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘তিন দিন আগে আমার ১৭ দিনের বাছুর এ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমার জানা মতে গ্রামের বেশির ভাগ গরুই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বাছুরের চিকিৎসা করাতে সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ হাসপাতালে এসেছি।’

বেতর গ্রামের বোলানাথ মন্ডল বলেন, ‘আমার খামারে থাকা পাঁচটি গরুর মধ্যে তিনটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু নিয়ে আমি খুব দুঃচিন্তায় পড়েছি।’

আলোকদিয়া গ্রামের খামারি রাকিবুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমার দুটি গরু দেড় মাসে আগে আক্রান্ত হয়। মোটামুটি সুস্থ হলেও পায়ে ও বুকে ক্ষত রয়েছে। গরু গুলো ঝিমায়, খাবার কম খায় এবং ক্ষত স্থান দিয়ে রক্ত ও পুজ বের হয়।’

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিন বলেন, ‘এ রোগের সরকারি কোন ভ্যাকসিন না থাকলেও বেসরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রতিদিন এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।’

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, ‘এ রোগে আক্রান্ত গরুর চামড়ার বেশি ক্ষতি হয়ে সৌন্দার্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে কোরবানির ঈদে কোন ক্রেতাই ক্ষত গরু কিনতে চায় না। এতে খামারিদের বিপাকে পড়তে হয়। টাঙ্গাইলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার গরু রয়েছে।’

কাওছার/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়