ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৩ জিলহজ ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জে কমছে যমুনার পানি, বানভাসিরা এখনো বিপদে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১২, ২৪ জুন ২০২২   আপডেট: ১১:১৩, ২৪ জুন ২০২২
সিরাজগঞ্জে কমছে যমুনার পানি, বানভাসিরা এখনো বিপদে

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে জেলার বন্যা পরিস্থিতি। তবে এখনো বন্যাকবলিত এলাকার বসতবাড়ি থেকে পানি না নামায় বাড়ি ফিরতে পারছে না বানভাসিরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ১৫ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। পানি কমলেও এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি। চলতি বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এই জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।

শুক্রবার (২৪ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার হাসানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর ও কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

যমুনার পানি দ্রুত কমছে। ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসবে বলে তিনি জানান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৮টি ইউনিয়নের ৮,৪০০ পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। বন্যাকবলিতদের মাঝে ১৪০ মেট্রিক টন চাল, ৬ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার স্ব-স্ব উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো দ্রুত বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মজুদ রয়েছে ৭৭১ মেট্রিক টন চাল ও ১৪ লাখ টাকা। সেই সাথে বিশেষ বরাদ্দের জন্য ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১ হাজার বান্ডিল ডেউটিন বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

চলতি বন্যায় জেলায় প্রায় ৫৬৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে বন্যার্তদের জন্য ১৮৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের চিকিৎসার জন্য ২৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক টিম কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনায় পানি কমতে শুরু করেছে। দ্রুত কমবে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও । খুব দ্রুতই নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, বন্যার্ত মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চেয়ারম্যানদের নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর রাখছেন।

তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের জন্য ৯১১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২০ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছি। ইতিমধ্যে ১৪০ মেট্রিক টন চাল, ৬ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করা হয়েছে।

অদিত্য রাসেল/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়