ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি: বিপাকে খামারিরা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ২৫ জুন ২০২২  
গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি: বিপাকে খামারিরা

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা আব্দুল হালিম বাবু। বছর দশেক আগে পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন গাভী পালন। রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে খামারেই মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তার খামারে ১৯টি গরু আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি খামারটি টিকে থাকবে কি না সেটা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

হালিম বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম হঠাৎ করে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। আবার টাকা দিয়েও গরুর খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। ১৫ দিন আগে খামারে প্রতিদিন খরচ ছিল তিন হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে আয় হয় তিন হাজার টাকা।’

হালিমের মতো অবস্থা জেলার অন্য খামারিদের। তারা জানান, এক বস্তা গমের ভুষির দাম দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১২৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার টাকা। খড়ের আটি আগে ছিল তিন টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকায়। চালের কুঁড়া প্রতি মনে বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। সেই সঙ্গে খৈল, প্রক্রিয়াজাত ফিডের দামও বেড়েছে। এছাড়া গরুর ভ্যাকসিনসহ সকল ওষধের দামও বেড়েছে।

খামারিরা বলেন, সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদামত খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গরুর স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। দুধের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে প্রতিদিনই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।

গো-খাদ্যে বিক্রেতা সাবদুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত কোরবানি ঈদের আগে গরুর খাবারে দাম বেশি থাকে। কিন্তু এই বছর মালই পাওয়া যাচ্ছে না। তিন গাড়ি অর্ডার করলে পাওয়া যায় এক গাড়ি।’

দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, গমের দাম বৃদ্ধির কারণে ভুসির দাম বেড়েছে। আর তেলের দাম বাড়ার কারণে বেড়েছে খৈলের দাম। সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনাও অনেক কমে গেছে।’

এপি এগ্রো ডেইরি খামারের মালিক আবুল কালাম আজাদ কোহিনুর বলেন, ‘আমার খামারে চার শতাধিক গরু ছিল। ক্রমাগত লোকসানের কারণে বিক্রি করতে করতে এখন ৮০টি গরু আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিয়মিত গরুর খাবারের দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে গরুর ওষধ ও ভ্যাকসিনের দামও বাড়ছে। এজন্য বছর খানেক আগে গরু বিক্রি করা শুরু করি।’

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘জেলায় প্রায় ১২ হাজার গরুর খামার রয়েছে। মূলত বৈশ্বিক কারণে গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। ফলে খামারিরা সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমরা খামারিদের ঘাস চাষের পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ গরুকে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস খাওয়াতে পারলে কেনা খাবারের উপর কিছুটা চাপ কমবে।’

সুকান্ত/কেআই

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়