ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

শিক্ষার্থীর স্ট্যাম্পের আঘাতে শিক্ষকের মৃত্যু 

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ২৭ জুন ২০২২   আপডেট: ১৩:০৩, ২৭ জুন ২০২২
শিক্ষার্থীর স্ট্যাম্পের আঘাতে শিক্ষকের মৃত্যু 

নিহত স্কুল শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীর স্ট্যাম্পের আঘাতে আহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

সোমবার (২৭ জুন) সকাল ৮ টার দিকে উৎপল কুমারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ইনচার্জ ইউসুফ আলী। 

এর আগে ভোর সোয়া ৫ টার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তিনি মারা যান। 

নিহত শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং শৃংখলা কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতু (১৬) চিত্রশালাই এলাকার উজ্জ্বল হাজীর ছেলে এবং একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। 

হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ছেলেদের ফুটবল ও মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করি। এবারও এই আয়োজন করা হয়েছিল। শনিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এসময় প্রতিষ্ঠানের দুই তলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছেলেরা খেলা দেখছিল। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতু সে সময় সেখানে ছিলেন। সকাল থেকেই তার হাতে স্ট্যাম্পটি ছিল বলে জানতে পেরেছি। হঠাৎ সে দুই তলা থেকে নেমে মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর শুরু করে। পরে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আজ (সোমবার) ভোর সোয়া ৫ টার দিকে তিনি মারা যান।’ 

সাইফুল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি শিক্ষকের প্রতি ওই শিক্ষার্থীর কোনো ক্ষোভ ছিল।’ 

নিহতের ভাই অসীম কুমার সরকার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি মেয়েদের ইভটিজিংসহ নানা উশৃঙ্খলার কারণে শাসন করায় ওই ছাত্র আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’ 

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘নিহত শিক্ষক  প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি থাকায়  নিয়ম কানুন মানাতে সব শিক্ষার্থীদের শাসন করতেন। তিনি জিতুকেও শাসন করেছিলেন। তাই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জিতুসহ নাম না জানা আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

সাব্বির/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়