ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

রাঙ্গাবালীতে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০ 

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি   || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৩, ৬ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১১:২৮, ৬ জুলাই ২০২২
রাঙ্গাবালীতে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০ 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরমোন্তাজের স্লুইজ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বাইলাবুনিয়া গ্রামে জমিজমা নিয়ে রাকিব খান ও বশির প্যাদা নামের দুই ব্যক্তির মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী নয়ারচর গ্রামে সালিশ বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন প্যাদা, সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শহিদুল খান উপস্থিত ছিলেন। এসময় সালিশ না মেনে রাকিব খান চলে আসার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তার উপর অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়। তাৎক্ষনিক ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বশির খানের ছেলে রিফাত ওই স্থানে গিয়ে স্থানীয় সালিশে অংশগ্রহনকারীদের অশ্লীল ভাষায় বকতে শুরু করেন। রাত ১১টার দিকে রিফাত স্লুইজ বাজারে তার চাচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোশারেফ খানের লোকজন নিয়ে সভাপতি মনির প্যাদার দোকান ঘর ও তার লোকজনের উপর হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে চরমোন্তাজ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। 

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন প্যাদা ও  সাধারণ সম্পাদক রসেল খানের সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। 

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শহিদুল খান জানান, সালিশ বৈঠক চলাকালীন রিফাত এসে সবাইকে গালমন্দ করেন। এক পর্যায়ে আমি তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি আমাকে ধাক্কা দেন। এসময় আমিও তাকে ধাক্কা দেই। পরে স্থানীয়রা আমাদের সরিয়ে দেয়। রাতে রিফাত স্লুইজ বাজারে এসে হামলা চালায়। এছাড়া তার লোকজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে রাখা ১০ থেকে ১৫ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। 

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোশারেফ খান জানান, সালিশ বৈঠকে আমার ভাইয়ের ছেলে রিফাতকে মারধর করার পর তারা ১০ থেকে ১৫ টি মোটরসাইকেল নিয়ে বাইলাবুনিয়া বাজারে শোডাউন দেয়। চরমোন্তাজ বাজারে এসে ইটপাটকেল নিয়ে আমার লোকজনের উপর হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমার বেশ কয়েকজন লোক পটুয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আর কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটবে না। ঝামেলা আমরা মিটমাট করে দিবো। 

চরমোন্তাজ তদন্দ্র কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 

ইমরান/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়