ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ৬ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১১:৫৯, ৬ জুলাই ২০২২
নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ৩

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে পঞ্চগড়ে দুই পরীক্ষার্থীসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আটককৃতরা হলেন- পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের বড়দাপ এলাকার কলিম উদ্দীনের ছেলে মোকসেদুর রহমান (২৮), একই উপজেলার ছোটদাপ এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে আহসান হাবিব (২৮) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি এলাকার বাবর আলীর ছেলে বেলাল উদ্দীন (৩৮)। 

আটককৃতদের মধ্যে মকসেদুর রহমান ও আহসান হাবিব শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থী এবং বেলাল উদ্দীন নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার্থী মকসেদুর রহমান ও আহসান হাবিবের মৌখিক পরীক্ষার সময় হাতের লেখার সঙ্গে তাদের লিখিত পরীক্ষার হাতের লেখার অমিল পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, লিখিত পরীক্ষা প্রক্সির মাধ্যমে অন্যের মাধ্যমে দিয়েছিলেন তারা। এজন্য তারা মোটা অঙকের টাকাও লেনদেন করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে কৌশলে বেলাল উদ্দীন ডেকে এনে তিন জনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করা হয়। 

চলতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজী এবং বাংলায় কয়েক লাইন হাতে লেখার কথা বলা হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়াসহ যে কোনো অনিয়ম ঠেকাতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্নদের কাগজপত্র জমা নেওয়া এবং মৌখিক পরীক্ষাতেও একই ভাবে লিখতে বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের কাছে জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পরে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীসহ তিন জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। রাতে তাদের থানায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, লিখিত পরীক্ষায় হাতের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় তাদের হাতের লেখা দেখে প্রাথমিকভাবে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য কাউকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং এজন্য তারা মোটা অঙকের অর্থ লেনদেন করেছেন বলেও স্বীকার করেন। 

আবু নাঈম/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়