ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিপন : পুলিশ 

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৪, ৬ জুলাই ২০২২  
স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিপন : পুলিশ 

অভাব-অনটন আর পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী ছাবিনা খাতুনকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তারপর শ্বাসরোধে হত্যা করে শিপন শেখ। পরে লাশ গুম করতে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেন। নিজে বাঁচতে প্রতিবেশীদের কাছে গল্প সাজান ‘তার স্ত্রী গরু বিক্রির টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে’। কিন্তু তবুও শেষরক্ষা হলো না। ধরা পড়লো পুলিশের হাতে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করলেন স্ত্রী ছাবিনাকে হত্যা কথা।

বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) রবিউল ইসলাম। এ সময় আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে গত দুই মাস আগে শিপন শেখ স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করেন। খুন করার আগেরদিন সোমবার (৪ জুলাই) বাড়ির একটা গরু বিক্রি করেন। গৃহবধূ ছাবিনা এনার্জি ড্রিংকস খেতে পছন্দ করে জেনে শিপন এনার্জি ড্রিংকস কিনে আনেন। রাতে তাদের তিন সন্তান পাশের রুমে ঘুমিয়ে পড়লে, প্রথমে এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কৌশলে ছাবিনাকে তা খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন শিপন। তারপর দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। লাশ গুম করার জন্য প্রথমে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ফেলে দেন। কিন্তু যখন দেখেন যে লাশ ভেসে উঠছে, তখন তিনি বাড়ি ফিরে গিয়ে একটা চাকু নিয়ে এসে গৃহবধূর পেট কেটে দেন এই ভেবে যে লাশ আর ভেসে উঠবে না এবং তিনি আর ধরা পড়বেন না।

সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, শিপনের দেখানো হত্যায় ব্যবহৃত এনার্জি ড্রিংকসের বোতল, দড়ি, গামছা ও চাকু উদ্ধার করা হয়। 

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকালে আমিনপুর থানাধীন পাইকান্দি গ্রামের ডোবা থেকে গৃহবধূ ছাবিনা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় ছাবিনার ভাই রুবেল মোল্লা বাদী হয়ে শিপনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে শিপন শেখকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 
 

শাহীন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়