ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

জাতিগত পরিচয় ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি চায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ৯ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৭:৩৭, ৯ আগস্ট ২০২২
জাতিগত পরিচয় ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি চায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা

সংবিধানে জাতিগত পরিচয় ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশের বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা। এছাড়াও ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও শোভাযাত্রা করেছে তারা। 

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ উপলক্ষে বিভিন্ন দাবি নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিপাদ্য ছিল ‘২০২২ উত্তর এজেন্ডা : ঐতিহ্যগত বিদ্যা সংরক্ষণ ও বিকাশে আদিবাসী নারী সমাজের ভূমিকা’। 

জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যোগ দেওয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মানববন্ধনে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে। ভূমি কমিশন আইন কার্যকর, সমতল অঞ্চলের তাদের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানায় তারা। 

এছাড়াও মৌলভীবাজার ও মধুপুরে ইকোপার্ক, গাইবান্ধায় ইপিজেড প্রকল্প, মধুপুরে অরুণখোলা মৌজার রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা, আমতলী বাইদে লেক নির্মাণ প্রকল্প বাতিল; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমিতে সামাজিক বনায়ন, ইকো ট্যুরিজম, ইপিজেড ও অন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করা; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপর সকল নিপীড়ন নির্যাতন বন্ধ করা, সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন তারা।  

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বিগত সময়ের তুলনায় দেশের আদিবাসীদের উপর যুগ যুগ ধরে চলমান রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, শোষণ, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতনসহ নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কাপেং ফাউন্ডেশনের করা মানবাধিকার রিপোর্ট-২০২১-এ দেখা গেছে শুধু ২০২১ সালে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে প্রায় ১ হাজার ৯৬ একর জমি বেদখল করে নেওয়া হয়েছে। এ বছরের এপ্রিল মাসে বান্দরবানের লামায় স্থানীয় আদিবাসীদের ভূমি বেদখলের জন্য প্রায় ৩৫০ একর জুমভূমি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ 

বক্তারা বলেন, ‘‘তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমের প্রগতিশীল ও বুদ্ধিজীবীদের ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার না কর জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের সংবিধানে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, সংবিধানের কোনো ধারা বা বিষয় নিয়ে বিতর্ক বা মতান্তর দেখা দিলে তার ব্যাখ্যা একমাত্র সুপ্রিম কোর্ট দিতে পারবে। সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, 'আদিবাসী' শব্দ ব্যবহারে আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।’ 

এ সময় ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের’ কক্সবাজার জেলা সভাপতি উতুং অং, সাধারণ সম্পাদক মংক্যালা, নারী নেত্রী মা টিন টিন, দীপ্তি শর্মা, উখিয়া উপজেলা সভাপতি অংকিউঅং চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ইমন চাকমা, মং অ্যাতাইন চাকমা, মুন্নু চাকমা, নয়ন চাকমাসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। 

/বকুল/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়