ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 ঝালকাঠি প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২০, ১৩ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৫:২১, ১৩ আগস্ট ২০২২
উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

৭ নং চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ৭ নং চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. জাকিয়া বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও ড্রেস কেনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

বিদ্যালয়ের ৪৯জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৩জন শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্ধকৃত সমুদয় টাকা সুকৌশলে তিনি উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

জামাল খান, মো. মাছুম ও মো. সেলিমসহ অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ২০২১ সনের উপবৃত্তির টাকা প্রাপ্তির জন্য নগদ একাউন্ট খুলতে আমাদের (অভিভাবকদের) কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক জাকিয়া বেগম জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, ছবি ও মোবাইল নম্বর নেন। তিনি নিজেই স্কুলের ৪৯জন শিক্ষার্থী নগদ একাউন্ট খোলেন।

বিভিন্ন সময়ে মোবাইলের নগদ একাউন্টে প্রাপ্য অংকের উপবৃত্তির টাকা মোবাইলে আসে। সেই টাকা উত্তোলনের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে পিন নম্বর চাইলে পিন নম্বরে সমস্যাসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। আমাদের মোবাইলের দোকানে বারবার পাঠিয়ে হয়রানি করেন। এরপর দেখতে পাই আমাদের মোবাইলের  নগদ একাউন্টে আসা উপবৃত্তির টাকা নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি প্রধান শিক্ষক জাকিয়া সু-কৌশলে ৪৩ জন শিক্ষার্থীর টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। 

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘স্কুলের ৪৩ জনের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল থেকে উধাও হওয়ার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক জাকিয়া বেগমের কাছে যাই আমারা। তিনি বিষয়টির কোনো গুরুত্বই দেননি। এ জন্য তাকে স্কুলে একটি সভা করতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং তার স্বামী মধু মিয়া  (হুন্ডা রেন্ট-এ কার চালক) আমাদেরকে মোবাইলে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ, মারধর ও বাড়াবাড়ি করলে মামলা করার হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ হওয়া অনেক টাকাই আত্মসাৎ করেছেন।’

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোসা. জাকিয়া বেগম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের ৪৯ জন শিক্ষার্থীর তালিকা করে পাঠাই। তার মধ্যে ২৯ জন টাকা পায় নাই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কি কারণে অভিভাবকরা টাকা পায়নি তা আমি কি করে বলবো, তাহলে তো আমাকেই নগদে কাজ করা লাগে। তবে যারা পাননি তাদের তালিকা করে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছি।’ 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৭ নং চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি ও ড্রেস বানানোর টাকা না পাওয়ার বিষয়ে নগদ কর্তৃপক্ষ (বরিশাল) এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জানার চেষ্টা করছি কিভাবে ও কোন মোবাইলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ওই টাকা রিকর্ভারি করা সম্ভব কি না তাও জানার চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে (১৮জুলাই) টাকা উত্তোলন না করার কারণে তা ফেরত যেতে পারে।’
 

অলোক/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়