ঢাকা     বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ২০ ১৪২৯ ||  ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

২০ একরে চলছে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কার্যক্রম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ১৮ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১৯:৪৬, ১৮ আগস্ট ২০২২
২০ একরে চলছে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কার্যক্রম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর। এ বন্দরকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর স্থলবন্দরও বলা হয়। এ বন্দরের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬ শতাধিক শ্রমিক। আড়াই যুগ পার হয়ে গেলেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই স্থলবন্দরে। শ্রমিকদের নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা। প্রায় ২০ একর জায়গা নিয়ে চলছে বন্দরের কার্যক্রম। জায়গা সঙ্কটের কারণেও ভোগান্তি পোহাতে হয় ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের।

১৯৯২ সালে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু করে। এ বন্দরে তালিকাভুক্ত ৭০০ শ্রমিক থাকলেও দৈনিক কাজ করে প্রায় ৬০০ শ্রমিক। বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ ভারতীয় ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে যাতায়াত করে। এর অধিকাংশ পাথর বোঝাই ট্রাক। এখানে ৩১টি শ্রমিক সংগঠন আছে। এই ৩১টি সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়ে ‘সমন্নয় শ্রমিক সংগঠন’ আছে একটি।

সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল বলেন, প্রায় ২০ একর জায়গা নিয়ে একটা স্থলবন্দর পরিচালনা করা সম্ভব নয়। যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রায় ৩৫০ একর জায়গা নিয়ে কার্যক্রম পরিচলনা হয়। জায়গা সংকটের কারণে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো যায় না, ভবিষ্যতে বন্দরের জায়গা বাড়লে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।’

আমদানিকারক আজিজুর রহমান বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের জায়গার পরিমাণ কম হওয়ায় আমদানিপণ্য খালাসের সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাতে গোনা কয়েকদিনের মধ্যে আমদানি পণ্য খালাস করতে হয়। বেঁধে দেওয়া সময় পার হয়ে গেলে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। যদি অতিরিক্ত জায়গা থাকতো, যথাসময়ের মধ্যে আমদানি পণ্য খালাস করা যেত। ফলে ভোগান্তিও হতো না আর অতিরিক্ত টাকাও লাগত না। 

শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি আছে শ্রমিক নেতাদের। তাদের দাবি, সোনামসজিদ বন্দরে নেই চিকিৎসালয়, কোনো অ্যাম্বুলেন্স। চলতি বছরের ১৩ জুলাই ভারতীয় ৩টি ট্রাকে স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের মধ্যে আগুন লাগে। প্রতিটি ট্রাকে ৪১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ব্লিচিং পাউডার ছিল। তখন থেকে বন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্দরে শ্রমিকরা কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়লেও বন্দরে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। বন্দরে মেডিকেল, অ্যাম্বুলেস ও ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মাণ হলে কিছুটা হলেও শঙ্কা মুক্ত হওয়া যাবে। 

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ল্যান্ডপোর্ট বর্ডার ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সশিপমেন্টের- স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ। তিনি বলেন, প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার বন্দর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যথাযথ নয়। বন্দরের ভেতরে শত শত কোটি টাকার মালামাল থাকে। এখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এসব মোকাবিলা করার জন্য বন্দরের পাশেই ফায়ার সার্ভিসের একটি কেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। 

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বলেন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার টার্গেট ছিল ৮২৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯৭১ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

সোনামসজিদ বন্দরের পানামা পোর্ট ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের জায়গা মাত্র ১৯ দশমিক ১৩ একর। জায়গা সংকটের কারণে ভোগান্তি কমাতে সরকারের কাছে আরও প্রায় ২২ একর জমির আবেদন করা হয়েছে।

পানামার মহাব্যবস্থাপক বেলাল উদ্দীন বলেন, ‘সোনামসজিদ স্থলবন্দরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। বেশ কয়েকদিন আগে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে বন্দরের ভিতরের এলাকা পরিদর্শন করেছি। ওইসব এলাকায় ১১টি স্থানে পাম্প বসানো আছে। আরও পাঁচটি স্থানে পাম্প বসানো হবে। এছাড়াও ৪০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আরও দুটি ট্যাংকি বসানো হবে।’
 

  শিয়াম/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়