ঢাকা     রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

সাটুরিয়ায় ছেলের ঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করলো বাবা 

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৭:১৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
সাটুরিয়ায় ছেলের ঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করলো বাবা 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কৈট্টা কাজীপাড়া এলাকায় আব্দুল আলীম নামে এক ভ্যানচালকের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই এলাকার মহর আলী লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে এই ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে জানান আব্দুল আলীম। মহর আলী সম্পর্কে তার বাবা।   

শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানচালক আলীমের ঘর ভাঙচুর অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে। ঘরের আসবাবপত্র রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঘরের খুঁটি, টিন ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুলে ফেলা হয়েছে বৈদ্যুতিক মিটারের তার। 

এ বিষয়ে আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রধান হামলাকারী মোহর আলী আমার বাবা। প্রায় দুই যুগ আগে আমার দুই বোন ও মাকে রেখে অন্য জায়গায় বিয়ে করেন তিনি। তারপর থেকে সে কখনো আমাদের খোঁজখবর নেয়নি। কিছুদিন আগে আমার দাদি আমাকে আড়াই শতাংশ জায়গা থাকার জন্য রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। এরপর থেকে মহর আলী জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে।’

উভয়পক্ষের আইনজীবী এবং গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে সালিশে বিষয়টি মিটমাট হয় উল্লেখ করে আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমার কাগজপত্র দেখে সালিশে তারা আমাকে ওই জমিতে বাস করতে বলেন। কিন্তু এর মধ্যেই মোহর আলী লাঠিয়াল নিয়ে অতর্কিত হামলা করে আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে।’

এ সময় ঘরে থাকা তিন লাখ টাকা হামলাকারীরা  নিয়ে গেছে বলেও আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন। 

আব্দুল আলীমের দাদি সাহেরা খাতুন বলেন, ‘মহর আলী আমার ছেলে হওয়ার পরও আমাকে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিতো। তাই নাতিরে অল্প একটু জায়গা লিখে দিছি। নাতিই আমারে দেখাশোনা করে। মোহর আলী আমার দেখভাল করে না।’ সাহেরা খাতুন হামলার বিচার দাবি করেন। 

আব্দুল আলীমের মা চায়না বেগম বলেন, মোহর আলী আমার স্বামী হলেও কখনও ভরণ-পোষণ করেনি। আমি মাটি কাইটা পুলাপানগুলা মানুষ করছি। আমার শাশুড়ি আমার পুলারে জায়গা লেখে দিছে। সেই জায়গাতেও সে থাকতে দিব না। ঘরবাড়ি সব গুড়াইয়া দিছে। এখন আমরা কই গিয়া থাকুম?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহর আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

সাটুরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ভাঙচুরের সংবাদ পেয়ে থানা থেকে অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।  


 

চন্দন/তারা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়