ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯

সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতন করা সেই মজনু গ্রেফতার 

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ৩ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১৭:০৪, ৩ অক্টোবর ২০২২
সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতন করা সেই মজনু গ্রেফতার 

মজনু মিয়া

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার ফৈলারঘোনা গ্রামের মজনু মিয়াকে তার সাবেক স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১ অক্টোবর) অনলাইন নি্উজপোর্টাল রাইজিংবিডিডটকমে ‘টাঙ্গাইলে গৃহবধুকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে আসায় রোববার (২ অক্টোবর) বিকেলে মজনু মিয়াকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। রাতে ভুক্তভোগী রুমা বেগম বাদী হয়ে মজনু মিয়াকে আসামি করে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী রুমা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরাসাট গ্রামের নবী মিয়ার মেয়ে। তিনি গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার ফৈলারঘোনা দক্ষিণপাড়া গ্রামে তার সাবেক স্বামী মজনু মিয়ার বাড়িতে এসে নির্যাতনের শিকার হন।

ভুক্তভোগী রুমা বেগম বলেন, ‘২০১৯ সালে আমার সঙ্গে মজনু মিয়ার মুঠোফোনে পরিচয় হয়। মজনু মিয়া তার পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে এক কাজীর মাধ্যমে ২ লাখ দেনমোহরে আমাকে বিয়ে করেন। এরপর ২০২০ সালে আমাদের ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। পরে আমাকে বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করে মজনু মিয়া। এক পর্যায়ে প্রায় সাত মাস আগে মজনুকে আমি তালাক দেই। পরে বিবাহিত জীবনের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় মজনু। এছাড়াও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আমি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর পূনরায় মজনু মিয়া তাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। ওই সময় আমি পূনরায় মজনুকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশের হস্তক্ষেপে মজনু টাঙ্গাইল ফিরে যায়। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে মজনু ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়ে খাবার কিনে দেয়ার কথা বলে ছেলে শুভকে চুরি করে নিয়ে আসে। পরে মুঠোফোনে ভিডিও কলে শুভকে দেখতে চাইলে দেখায়নি মজনু। উল্টো আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ছেলেকে নিতে হলে আমাকে টাঙ্গাইল আসতে বলে মজনু। গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ছেলেকে নিতে টাঙ্গাইল আসি। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে থেকে আমাকে নিয়ে মজনু শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সময় পার করে রাতে তার গ্রামের বাড়ির দিকে নিয়ে যায়। বাড়ির কাছাকাছি যাওয়ার পর মজনু রাস্তা দিয়ে না গিয়ে ফসলি জমির আইল ধরে বাড়ির দিকে এগোতে থাকে। এক পর্যায়ে মজনু আমাকে কচুক্ষেতে ফেলে দিয়ে বুকের ওপর চড়ে বসে। আমাকে ছুরি দিয়ে ঘাড়ে ও গালে আঘাত করে। চিৎকার করলে তার মুখের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দেয় মজনু। হাতে-পায়ে ধরে প্রাণে রক্ষা পাই।’

ফৈলারঘোনা গ্রামের বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তি জানান, মজনুর প্রথম স্ত্রী ও তার মা দেড় বছরের শিশু শুভ মিয়াকে মারধর করেছে। ঠিক মতো খাবারও দেয়নি। আশপাশের বাড়িতে গিয়ে শুভ খাবার খেয়েছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, বিষয়টি জানার পর মজনুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার সাবেক স্ত্রী রুমা বেগম মারধর করার অভিযোগে মজনুকে আসামি করে মামলা করে। আদালতের আদেশ পেলে তাদের সন্তানকে উদ্ধার করা হবে।

কাওছার/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়