ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৯ ||  ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

হোটেল কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ, রংপুরে হরিজন বিরোধ সমাধান

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪০, ৪ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ২২:৫৫, ৪ অক্টোবর ২০২২
হোটেল কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ, রংপুরে হরিজন বিরোধ সমাধান

রংপুর নগরীর মৌবন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের হেনস্তার শিকার হরিজন কিশোর জীবন বাসফোরকে মিষ্টি খাইয়ে ঘটনার সমাধান করলেন। এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ জীবন বাসফোরকে অপমান করার বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করে।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে মৌবন হোটেলের ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে মিষ্টি খাইয়ে হরিজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট ঘটনার সমাধান করেন।

নগরীর মৌবন হোটেল এবং হরিজন সম্প্রদায়ের বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি মাহফুজার রহমান। তিনি বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ ও হরিজন সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধটি মীমাংসা করা হয়েছে। এছাড়াও হোটেল কর্তৃপক্ষ নিজ হাতে লাঞ্ছিত ওই হরিজন ছেলেটিকে মিষ্টি খাইয়ে ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, মৌবন হোটেল ম্যানেজার আরিফুজ্জামান, হরিজন অধিকার আদায় সংগঠনের নেতা রাজা বাসফোর, রাজু বাসফোর, সাজু বাসফোর, সুরেশ বাসফোরসহ অন্যরা।

মৌবন হোটেল ম্যানেজার আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সেদিন যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে মালিকপক্ষের কেউ জড়িত ছিল না। প্রশাসনের মাধ্যমে হরিজনদের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষ বসে আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ মিটে গেছে। আমি নিজে জীবন বাসফোরকে মিষ্টি খাইয়ে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে হরিজন সম্প্রদায়ের রংপুর জেলা সভাপতি সুরেশ বাসফোর বলেন, ‘মীমাংসার পর মৌবন হোটেলে গিয়ে আমরা এক সঙ্গে মিষ্টি খেয়েছি। আগামীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।’  সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

গত শনিবার (১ অক্টোবর) রংপুর নগরীর কাচারী বাজারস্থ মৌবন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের স্কুলপড়ুয়া জীবন বাসফোর (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে হোটেলের প্যাডে ‘এই হোটেলে খাওয়া নিষেধ সুইপারের’ লিখে ওই হোটেলে হরিজনদের খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মহানগর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেন হরিজন সম্প্রদায়।
 

আমিরুল/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়