ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৯ ||  ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

পরিত্যক্ত কাঠে ২৫০ পরিবারের জীবন-জীবিকা

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৫ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১২:৪৭, ৫ অক্টোবর ২০২২
পরিত্যক্ত কাঠে ২৫০ পরিবারের জীবন-জীবিকা

জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন পাহাড়ি এলাকা ভবানীপুরের বাসিন্দারা

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ভবানীপুর। এখানকারই বাসিন্দা সাইফুর রহমান সাদ্দাম (২৫)। সারাদিন রুপাইছড়া রাবার বাগান ঘুরে পরিত্যক্ত জ্বালানি কাঠ (লাকড়ি) সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যেয়ে এসব কাঠ প্রক্রিয়াজাত করেন। পরে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই পরিবারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাড়িতে ফেরেন তিনি। 

সাইফুর বলেন, ‘চার সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহে এ পেশা বেছে নিয়েছি। এ কাজে অনেক পরিশ্রম। তবে সৎপথে রোজগারের আনন্দ আছে। তাই আমি পরিশ্রমের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি।’ 

পরিত্যাক্ত লাকড়ি সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত তোতা মিয়া (৬০)। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি কাঠ বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সৎপথে জীবিকা নির্বাহ করছি। বড় লোক হওয়ার ইচ্ছাটা ত্যাগ করে সৎপথে রোজগার করছি।’ 

সাইফুর ও তোতা মিয়ার মতো রুপাইছড়া রাবার বাগানের আশেপাশে অবস্থিত ভবানীপুর, দক্ষিণ ভবানীপুর, ববানপুর, গঙ্গাচাতল, মির্জাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবারের লোকজন পরিত্যক্ত কাঠ সংগ্রহ করছেন। এসব কাঠ বিক্রির অর্থ দিয়েই চলছে তাদের পরিবার।

জ্বালানি কাঠ ক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, ‘পুটিজুরী পাহাড়ি এলাকার জ্বালানি কাঠ (লাকড়ি) ভালো। দাম হাতের নাগালে। তাই নিয়মিত এখান থেকেই কাঠ কিনি। আমার মতো অনেকেই এখানকার কাঠ (লাকড়ি) কেনেন।’ 

অপর ক্রেতা সমুজ মিয়া বলেন, ‘জ্বালানি কাঠ শহরে পাওয়া যায় না। তাই পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগ্রহ করছি। বর্তমানে প্রায় সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই তুলনায় জ্বালানী কাঠের দাম নাগালে রয়েছে।’

ময়না মিয়া, আমির মিয়া, আখলাছ মিয়াসহ পরিত্যক্ত কাঠ সংগ্রহকারী অনেকেই জানান, এ পেশায় কঠোর পরিশ্রম। তাই তারা অন্য পেশায় কাজ করতে চান। তবে অন্য পেশায় কাজ করতে অর্থের প্রয়োজন। এজন্য সরকারের কাছে থেকে আর্থিক সহযোগিতা দরকার।

পরিবেশ প্রেমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘রুপাইছড়া বাগানের রাবার গাছের পরিত্যক্ত লাকড়ি ও পাতা সংগ্রহ  করে প্রায় ২৫০ পরিবার। পরে নিজেদের জ্বালানি কাজে পাতাগুলো তারা ব্যবহার করেন। আর পরিত্যক্ত লাকড়িগুলো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখানে রুপাইছড়া রাবার বাগান ছাড়াও আশেপাশের চা বাগান দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবিকার পথ সৃষ্টি হয়েছে।’  

মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়