ঢাকা     শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৯

পাবনায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামের সড়কের পুনরায় নামকরণ

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ৫ অক্টোবর ২০২২  
পাবনায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামের সড়কের পুনরায় নামকরণ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলতলা (মুনসিদপুর) হতে মাধপুর (বগামিয়া) সড়ক পর্যন্ত সড়কটি সরকারিভাবে ২০ বছর আগে নামকরণ করা হয় ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক সড়ক’ নামে। অজ্ঞাত কারণে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে সড়কটির নাম পরিবর্তন করে প্রয়াত ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের নামে নামকরণ করেছেন। একই সড়ক দুই জনের নামে নামকরণ করা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি রাজশাহীর পরিচালক ২০০০ সালের ১৭ এপ্রিল প্রত্যয়ন প্রদান করেন, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিন আহমেদের ছেলে তোজাম্মেল হক অত্র প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যায়নকালে ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ হন। তিনিসহ আরও ২ জন শহীদকে ওই প্রতিষ্ঠানে কবরস্থ করা হয়।

শহীদ তোজাম্মেল হকের ভাতিজা প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিজ এলাকার ‘তেঁতুলতলা (মুনসিদপুর) হতে মাধপুর (বগামিয়া) সড়ক’টি শহীদ চাচার স্মৃতি ধরে রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসক বরাবর রাস্তার নামকরণের জন্য আবেদন করেন। ওই সময়ে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এবং পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড থেকে সুপারিশ করা হয়।

গত ২০০২ সালের ২ মার্চ জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। একই বছরের ৩ মার্চ ঈশ্বরদী এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীকে সড়কটির আর কোনো নাম আছে কি-না তার যাচাইয়ের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চ এলজিইডি থেকে অনাপত্তি জানানো হয়। পরবর্তীতে ২০ মার্চ তৎকালীন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সড়ড়ের নামকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ তোজ্জাম্মেল হকের ভাতিজা আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক জানান, সরকারিভাবে সড়কের নামকরণ অনুমোদন লাভের পর এলাকাবাসী ও পরিবারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সড়কের দুইপ্রান্তে দুটো নামফলক স্থাপন করা হয়।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্বপরিবারে আমেরিকায় অবস্থান করার সুযোগে স্থানীয় কুচক্রি মহল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক সড়কের দু'পাশের নামফলক রাতের আধারে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলে। পরবর্তীতে দাশুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে প্রয়াত ইউপি মেম্বার আব্দুস সাত্তারের নামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক সড়কের নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়ম বর্হিভূতভাবে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সড়কটির নাম পরিবর্তন করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের ছোট ভাই সিরাজুল হক বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার ভাই দেশের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আমরা তার স্মৃতি ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারিভাবে রাস্তাটির নাম আমার ভাইয়ের নামে পেয়েছিলাম। অজ্ঞাত কারণে তার নাম বাদ দিয়ে একজন ইউপি সদস্যের নামে নামকরণ করে একজন শহীদের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে আমার শহীদ ভাইয়ের নামে এই সড়কের নামকরণ ফিরে পেতে চাই।’

দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড মেম্বার ইমদাদ হোসেন বলেন, একজনের নামে সড়ক আছে এটা জানলে নিশ্চয়ই চেয়ারম্যান এটা করতেন না। তার না জানার কারণে এমনটি হতে পারে।

দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বকুল সরদার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের কখনো ছোট করতে চাই না। যদি এমন ঘটনা ঘটে এ জন্য আমি দুঃখিত এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ওখান থেকে আব্দুস সাত্তার নামের সাইনবোর্ড সরিয়ে অন্য সড়কের নামকরণ করবো।’

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার অজ্ঞতার কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন৷ যদি ব্যত্যয় ঘটে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো সড়কের নামকরণ করতে গেলে অবশ্যই প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।’

শাহীন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়