ঢাকা     সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

‘আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, আর ছেলে জীবন দিয়েছে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ৫ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ২০:৫০, ৫ অক্টোবর ২০২২
‘আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, আর ছেলে জীবন দিয়েছে’

আব্দুন নূর

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শান্তিরক্ষী হয়ে গিয়েছিলেন জসিম উদ্দিন (৩১)। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর এই সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন। জসিমের নিহতের সংবাদে বাকরুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা বাবা আব্দুন নূর। ঘরের মেঝেতে বসে আহাজারি করছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার ও ছোট্ট ছেলেগুলো।

জসিমের বড় ভাই সহকারী আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার (কুমিল্লা) জুলহাস উদ্দিনও কাঁদছেন। প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়রা তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ছোট্ট শিশুগুলো বাবার চাকরি জীবনের কাগজগুলো দেখিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিংগা গ্রামে।

বুধবার (৫ অক্টোবর) সকালে জসিমের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

নিহত জসিম উদ্দিনের বড় ভাই জুলহাস উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সিলেটের ৬১ বেঙ্গল ই রেজিমেন্ট থেকে ফোন করে জসিমের নিহতের সংবাদ জানানো হয়। তিনি ১৩ বছর ধরে চাকরি করছিলেন। ৯ মাস ২০ দিন আগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আফ্রিকায় যান। তার ৩ ও ২ বছর বয়সী ২টি ছেলে আছে। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জসিম উদ্দিনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুন নুরু বলেন, ‘আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমার ছেলেও দেশের জন্য দেশের বাহিরে গিয়ে জীবন দিয়েছে।’ পরিবারের পাশে থাকা এবং ছেলের লাশটি দ্রুত দেশে আনার দাবি জানান তিনি। 

বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘পূজার দায়িত্ব থাকার কারণে আমি যেতে পারেনি কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলেন খবরাখবর নেওয়ার জন্য। আজ পূজা শেষ হলে কাল আমি নিজেও জসিম উদ্দিনের বাড়িতে যাব।’ 

জসিমের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও ইউএনও জানান।

আরও পড়ুন: শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে জসিম

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের পশ্চিম সেক্টরে বোয়ার এলাকায় মোতায়েন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন (ব্যানব্যাট-৮) ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। দুর্গম এলাকায় মোতায়েন অন্যতম অস্থায়ী ক্যাম্প কুই হতে পরিচালিত যান্ত্রিক টহলের একটি দল মেজর আশরাফের নেতৃত্বে কাইতা এলাকায় টহলে যায়। ফেরার পথে টহল কমান্ডার মেজর আশরাফকে বহনকারী প্রথম গাড়িটি মাটিতে পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে পতিত হয়। এতে গাড়িটি প্রায় ১৫ ফুট দূরত্বে ছিটকে পড়ে। এতে জসিমসহ ৩ সেনা মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মারা যায়। 

রুবেল/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়