ঢাকা     বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২৫ ১৪২৯

সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখোরিত রাজবন বিহার 

রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১০, ৯ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১৬:৪৪, ৯ অক্টোবর ২০২২
সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখোরিত রাজবন বিহার 

সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটিতেও যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করা হয়েছে।

রোবাবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটি রাজবন বিহার প্রাঙ্গনে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান ও প্রাতঃরাশ, বুদ্ধমূর্তি দান, পঞ্চশীল গ্রহণ, অষ্টপরিস্কার দান, বুদ্ধপূজাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আচার শেষে দেব-মানবের তথা সব প্রাণীর হিতার্থে ধর্মদেশনা দেওয়া হয়।

স্বধর্ম প্রাণ দায়ক-দায়িকাদের উদ্দেশে ধর্মীয় দেশনা দেন রাজবন বিহারের ভিক্ষু-সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাথের। এসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখোরিত হয়ে উঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, রাজবন বিহার পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমিয় কান্তি খীসা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞালংকর মহাস্থবির প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্যদিয়ে বুদ্ধের অহিংসা পরম নীতি মেনে চলে সব প্রকার মিথ্যা দৃষ্টি পরিহার করে লোভ, হিংসা, মোহ সংঘাতসহ যাবতীয় খারাপ কাজ পরিহার করে সৎ পথে চলতে ও মৈত্রীপূর্ণ মনোভাব নিয়ে একে অপরে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার হিতোপদেশ প্রদান করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, ‘সারা বিশ্বে মহামারী চলছে। তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশ এবং সারা বিশ্বে যেন শান্তি বিরাজ করে  আমরা এটা বিশ্বাস করি।  অস্ত্র নয়, যুদ্ধ নয় শান্তিতে আমরা বিশ্বাস করি।’ 

নিখিল কুমার চাকমা বলেন, ‘জগতের সব মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এটাই আমার কামনা।’

প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ ধর্মীয় ভিক্ষুরা তিন মাস বর্ষাবাসের শেষ দিনটিতে প্রবারণা পূর্ণিমা হিসেবে উদযাপন করে থাকে। প্রবারণা হল আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। এরপর দীর্ঘ একমাস ধরে আয়োজন চলবে প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব (ভিক্ষুদের গেরুয়া রংয়ের বস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠান)। 

বিজয় ধর/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়