ঢাকা     বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২৫ ১৪২৯

সিরাজগঞ্জে ধুমধাম করে বট-পাকুড়ের বিয়ে 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১২, ২৬ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৮:১৬, ২৬ নভেম্বর ২০২২
সিরাজগঞ্জে ধুমধাম করে বট-পাকুড়ের বিয়ে 

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা

ধুতি-টোপড়সহ আনুষ্ঠানিকতার কমতি ছিল না। সনাতন ধর্মালম্বী রীতি অনুসারে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে ধুমধামে বট-পাকুড়ের বিয়ে হয়েছে। উৎসুক মানুষ ভিড় জমায় এ বিয়ে দেখতে।

পরিবার তথা গ্রামের পার্থিব মঙ্গল কামনায় নিজেদের বিশ্বাস থেকে শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার রায় দৌলতপুরের গোপালপুর গ্রামে ওই বিয়ের আয়োজন করেন তাঁত মালিক শীতল সরকার। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বট-পাকুড় গাছের ব্যতিক্রমী এই বিয়ে হয়। এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় গ্রামের মানুষেরা।

সনাতনী শাস্ত্রের রীতি অনুসারে লগ্ন, তিথি ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিয়ে শেষে প্রীতিভোজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়। আয়োজক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের আগত দর্শনার্থীরাও সেখানে ভিড় জমান বিয়ে উপভোগ করতে।

বট-পাকুড়ের বিয়ের আয়োজক শীতল সরকার বলেন, ‘আমার বাড়ির আঙিনায় একটি তাল গাছ রয়েছে। পাশে দেড় যুগ আগে বট গাছের সঙ্গে একটি পাকুড় গাছেরও জন্ম হয়। পাকুড় গাছ ও বট গাছের পাশাপাশি জন্ম হলে পৌরণিক শাস্ত্রমতে একটিকে পুরুষ, অন্যটিকে নারী বিবেচনা করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। নানা সমস্যার কারণে আমরা এতদিন সেই বিয়ের আয়োজন করতে পারিনি। সেজন্য আমার পরিবারে ছোটখাট নানা সংকট ও বিপদ লেগেই থাকতো।’

বিয়ের আয়োজনে পরিবারের লোকজন একাধিকবার স্বপ্ন দেখেছেন বলে জানান তিনি।

পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের সংকট কাটাতে সনাতনী ধর্মালম্বী প্রতিবেশীদের নিয়ে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ মন্ডল মিঠুন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে শুনছিলাম বট-পাকুড়ের বিয়ে হবে। অনেক প্রতীক্ষার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় শীতল সরকারের বাড়িতে পাকুড় গাছে ধুতি, পাঞ্জাবি ও মুকুট জড়িয়ে এবং বট গাছে শাড়ি, শাখা, সিঁদুর ও মুকুট পরিয়ে আনুষ্ঠানিক বিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

একই গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ মোহন মজুমদার বলেন, বিয়েতে পাকুড় গাছকে বর ও বট গাছকে কনে সাজিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে আলোকসজ্জা আর ঢাক-ঢোলের পাশাপাশি সাউন্ড বক্সে নানা ধরণের গান বাজিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে আগত অতিথিরা। সন্ধ্যায় বিয়ের পর আয়োজক শীতল সরকারের বাড়িতে গ্রামের সবাই নৈশভোজেও অংশ নেয়।

রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বট ও পাকুড় গাছ একইস্থানে জন্মালে তাদের মধ্যে বিয়ে পড়াতে হয়। এ কারণে শীতল সরকার আয়োজন করে দিয়ে দেন। ব্যতিক্রমী এ বিয়েতে অতিথি ছাড়াও আশপাশের গ্রাম থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক লোককে খাওয়ানো হয়।
 

অদিত্য/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়