ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৭ ১৪২৯

আরএমপিতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব

রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩০, ২৭ নভেম্বর ২০২২  
আরএমপিতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব

রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) যাত্রা শুরু করলো ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব। সাইবার অপরাধ ও অপরাধী শনাক্তকরণসহ ডিজিটাল তথ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে দ্রুত পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এই ল্যাব চালু করা হলো। 

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাসিস্ট্যান্স (এটিএ) ও আমেরিকান দূতাবাসের সহযোগিতায় ল্যাবটি শহরের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে আরএমপির নির্মাণাধীন সদর দপ্তরের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার (২৭ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাবের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান টেকনোলজি নির্ভর যুগে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিত্যনতুন অপরাধ সংঘটিত করছে। আরএমপির থানাগুলোতে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ ও ডায়েরি তদন্তে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট নিয়মিতভাবে সহযোগিতা করছে। আগে ডিজিটাল ডিভাইস ও সাইবার সংক্রান্ত অপরাধ ও অপরাধীদের শনাক্তকরণসহ আলামতের সত্যতা নিরূপণের জন্য আরএমপি সিআইডি ও পিবিআইয়ের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সহায়তা নিতো। এবার আরএমপির নিজস্ব ল্যাব হলো।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও ফরেনসিক সফটওয়্যার সম্বলিত অত্যাধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে আরএমপিতেই এই কাজগুলো করা হবে। এর ফলে অপরাধ সনাক্তকরণ সহজ হবে এবং কম সময়ে অধিক মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই ল্যাব স্থাপনের সহায়তা করায় তিনি আমেরিকান দূতাবাস এবং এটিএ’র প্রশিক্ষকদের ধন্যাবাদ জানান।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী বলেন, এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে কম্পিউটার ও ডিজিটাল স্টোরেজ মিডিয়া থেকে গোপনীয় ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা যাবে। থাম্ব ড্রাইভ, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ এবং অন্য পদ্ধতিগুলোর মতো বৈদ্যুতিক ডিভাইস দিয়ে তথ্য এবং অন্যান্য মূল্যবান ডেটা সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করা যাবে। অপরাধ ঢাকতে বা আলামত গায়েব করতে মুছে ফেলা তথ্য, সোআপ ফাইল, মেমোরি ডাম্প, হার্ড ড্রাইভে ফাঁকা ফোল্ডার, প্রিন্ট স্পুলার ফাইলের ফরেনসিক পরীক্ষা করা যাবে এই ল্যাবে। মোবাইল ফরেনসিকের মধ্যে রয়েছে অপরাধ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও যে কোনো ডিভাইস। ফরেনসিকের মাধ্যমে মোবাইল ফোন, ট্যাব, জিপিএস, ডিভাইস, ড্রোন ইত্যাদি থেকে ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, যেসব ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করবে তার মধ্যে রয়েছে-এসএমএস এবং এমএমএস বা এ জাতীয় মুছে ফেলা ডেটা, কল লগ ও  যোগাযোগের তালিকা, ফোন আইএমইআই ও ইএসএন সম্পর্কিত তথ্য, ওয়েব ব্রাউজিং, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সেটিংস, জিওলোকেশন তথ্য, ই-মেইল এবং ইন্টারনেট মিডিয়া ও ফর্ম, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং পরিষেবা, পোস্টসহ বিভিন্ন ডার্ক ও ডিপ ওয়েবসাইটের হোয়াইট কলার অপরাধের আলামতগুলো। এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে অ্যাপ ডেটা, মেসেঞ্জার ডেটা ও ক্লাউড ড্রাইভে সংরক্ষিত ডেটা বিশ্লেষণ করে সকল অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।

ল্যাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বিজয় বসাক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড ডিবি) সামসুন নাহার, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সাইফউদ্দীন শাহীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এটিএ’র প্রশিক্ষকেরা।
 

কেয়া/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়