ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

এসে গেছে খেজুর রসের দিন

মোসলেম উদ্দিন, দিনাজপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৭, ২৮ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ০৯:১০, ২৮ নভেম্বর ২০২২
এসে গেছে খেজুর রসের দিন

চলতি হেমন্ত ঋতুর অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝিতে দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গে নেমে এসেছে শীত। প্রকৃতিতে এখন শীতের আবহ। তাই খেজুরের রস সংগ্রহে আর গাছ চাঁছায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অঞ্চলের গাছিরা।

জেলার হিলি শহর, গ্রাম ও রাস্তা-ঘাট ঘুরে দেখা যায়, সুস্বাদু রস পাওয়ার আশায় গাছিরা খেজুরের গাছ পরিস্কার করে এক চাঁছ দিয়েছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে আবার চাঁছ দিবেন। এভাবে তৃতীয় দফা চাঁছের পর নামতে শুরু করবে কাঙ্ক্ষিত রস। 

গাছিরা গৃহস্থর কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে রসের পুরো মৌসুম গাছ কিনে নেন। আবার রসের বিনিময়েও গাছ লাগান তারা। কিছু গৃহস্থরা নিজেদের রসের চাহিদা মেটাতে নিজেরাই খেজুর গাছে চাঁছ দিয়েছেন।

এ জেলায় খেজুরের রস শীতকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। খেজুর রসের পিঠা খাওয়া চাই সবার। বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জে খেজুর রসের পিঠাপুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।  এছাড়াও মুড়ি দিয়ে টাটকা মিষ্টি খেজুরের রস খাওয়াও অনেকের পছন্দের। শীতের সকালে রস খাওয়া গ্রাম-বাংলার মানুষের চিরন্তন অভ্যাস। আবার অনেক গৃহস্থ খেজুরের গুড় তৈরি করেন।

হিলির মহিলা কলেজ পাড়ার কিশোর রাব্বি বলেন, রাস্তার পাশেই আমাদের বাসা, রাস্তার সঙ্গেই এই খেজুরের গাছ আমাদের। গাছিরা এক মাস হলো গাছ চাঁছ দিয়েছে। সন্ধ্যা হলে তারা রসের ঠিলা (কলস) লাগিয়ে যায়। পরের দিন ভোরে রসের ঠিলা নামিয়ে নেয়। তবে দেখি গাছ থেকে রস পড়তে থাকে। তাই আমি সকালে প্লাস্টিকের বোতল গাছে টাঙিয়ে রাখি। এক ঘন্টার মধ্যে আমার বোতল ভরে যায়। প্রতিদিন এভাবে বোতলে রস লাগিয়ে পরিবারের সবাই গাছের টাটকা রস খাই।

সাতনিগ্রামের রেজাউল করিম বলেন, আমার বাড়িতে একটি পুরাতন খেজুরের গাছ আছে। খেজুর রস আমার পরিবারের সবাই পছন্দ করে। শীত পড়ে যাচ্ছে, তাই গাছ পরিষ্কার করে এক চাঁছ দিয়েছি। আরও দুই চাঁছ দেওয়ার পর রস নামতে শুরু করবে।

হিলির ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের রাসেল মিয়া বলেন, শীতকালীন খেজুরের রস খেতে খুব ভালবাসি। গ্রাম থেকে কয়েকজন গাছি আসে। শীত এলেই তাদের কাছ থেকে রস কিনে নিজে খাই। এছাড়াও খেজুরের রস দিয়ে পরিবার শীত মৌসুমি রস পিঠা তৈরি করে থাকে।

হরিহরপুর গ্রামের গাছি ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে এটা আমাদের পেশা। আগে বাবা এই পেশায় ছিলেন, এখন তার বয়স হয়েছে, তাই আমি করছি।  ৬০টির মতো খেজুরের গাছ নিয়েছি। শীত নেমে গেছে, গাছগুলো পরিষ্কার করে এক চাঁছ দিয়েছি। আর এক চাঁছের পর রস পড়তে থাকবে। সপ্তাহখানেক পর আশা করছি রস নামবে এবং তা বাজারে বিক্রি করতে পারবো। শীত আসলেই আমাদের অনেক কদর বেড়ে যায়। অনেক সময় অর্ডারি রস দিয়ে শেষ করতে পারি না।

/টিপু/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়