ঢাকা     রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২২ ১৪২৯

পঞ্চগড় মুক্ত দিবস আজ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫০, ২৯ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ০৮:৫১, ২৯ নভেম্বর ২০২২
পঞ্চগড় মুক্ত দিবস আজ

আজ ২৯ নভেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয় পঞ্চগড়। দীর্ঘ সাড়ে ৭ মাস কঠিন লড়াইয়ের পর সেদিন মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধারা দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে পঞ্চগড়কে মুক্ত করেন। এজন্য দিনটিকে পঞ্চগড় মুক্ত দিবস বলা হয়। প্রতি বছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় পঞ্চগড়ে। এ বছরও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে পঞ্চগড়ের দিকে অগ্রসর হয়ে ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পঞ্চগড় দখল করে নেয়।

পঞ্চগড় দখল করে পাকবাহিনী পঞ্চগড় সদর, তালমা, গলেহা, আটোয়ারী সদর, মির্জাপুর, বোদা, ময়দানদিঘী, নয়াদিঘী, সাকোয়া, জগদল, অমরখানাসহ বেশকিছু স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে।

যুদ্ধের একপর্যায়ে টিকতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন মাগুরমারীতে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা অমরখানা চাওয়াই নদীর ওপরের ব্রিজ ডিনামাইট দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে পাক হানাদাররা তেঁতুলিয়ায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তেঁতুলিয়া পাকহানাদার মুক্ত থাকে।

তৎকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

এদিকে, যুদ্ধের পুরো সময় মুক্তিযোদ্ধারা তেঁতুলিয়া, ভজনপুর, মাগুরমারী, ময়নাগুড়ি, দেবনগরে ক্যাম্প করে অবস্থান নেয়। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য হাইড আউটের মাধ্যমে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে ৬/ক সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল পঞ্চগড়। এ অঞ্চলে মোট ৭টি কোম্পানির অধীনে ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায় তেঁতুলিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। এছাড়া মুক্তাঞ্চল তেঁতুলিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের রিক্রুটিং প্রশিক্ষণ, অস্ত্রের যোগান দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তিনি অসামান্য ভ‍ূমিকা রাখেন।

সেক্টর কমান্ডার মেজর আবুল বাশার, স্কোয়াড্রন লিডার সদরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার, লে. মাসুদুর রহমান, লে. আব্দুল মতিন চৌধুরী, লে. মো. হাসান আলী (আইও), মেজর কাজিমউদ্দিন, গেরিলা যোদ্ধা কমান্ডার মাহবুব আলমসহ অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধ জোরদার করে।

এর ফলে নতুন নতুন এলাকা মুক্ত হতে থাকে। মুক্তি ও মিত্রবাহিনী পাকবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে ২০ নভেম্বর অমরখানা, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট, ২৬ নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭ নভেম্বর তালমা, ২৮ নভেম্বর পঞ্চগড় সিও অফিস এবং ওই একই দিনে আটোয়ারী ও মির্জাপুর মুক্ত করেন।

মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক দিয়ে পাকবাহিনীর ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে। মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর ট্যাঙ্ক ও পদাতিক বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে পাকবাহিনী পরাজিত হয়ে পঞ্চগড় এলাকা ত্যাগ করে। এভাবেই ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় পাকবাহিনী মুক্ত হয়।

/আবু নাঈম/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়