ঢাকা     রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

সড়কে দোকান, কোটি টাকার বাণিজ্য

জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ৩০ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১০:৪৫, ৩০ নভেম্বর ২০২২
সড়কে দোকান, কোটি টাকার বাণিজ্য

সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে দোকান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে কাজী বিপু রহমান নামের এক নারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক বিভাগ ওই সব দোকান অপসারণ করার নোটিশ দিলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। 

অভিযুক্ত কাজী বিপু রহমানের দাবি, মালিকানা জায়গাতেই দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, দ্রুত অবৈধ সব দোকান উচ্ছেদ করা হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নবীন সিনেমা হলের সামনে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী কাপড়ের দোকান। প্রতি পাঁচ ফুট জায়গার দোকানের পজিশন অনুযায়ী দেড় থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম  জামানত নিয়েছেন বিপু রহমান। কাপড় ব্যবসায়ীরা কেউ পাঁচ ফুট কেউ বা দশ ফুট পজিশনের টাকা অগ্রিম দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা করছেন। পনের জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকার বেশি অগ্রিম জামানত নিয়েছেন বিপু রহমান। এছাড়া প্রতি পাচঁ ফুট জায়গার জন্য প্রতি মাসে ব্যবসায়ীদের সাড়ে তিন হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। সামনের সারির দোকানের ভাড়া আরো বেশি। বিপু রহমান প্রতি মাসে ভাড়া তুলেন প্রায় লাখ টাকা। 

অর্ধযুগ ধরে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে ভাড়া দিয়ে বিপু রহমান জামানত গ্রহণ ও মাসিক ভাড়া আদায় করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আর এসব দোকান ভাড়ার টাকা উত্তোলন ও দেখভাল করেন কাজী বিপু রহমানের ম্যানেজার মো.কাজীমুদ্দিন।

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ জানায়, কাজী বিপু রহমানসহ ১৫ জন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন সময় মৌখিকভাবে দোকানপাট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে দোকানগুলো পাঁচ দিনের মধ্যে অপসারণ করার নোটিশ প্রদান করা হয়।

মো.সোহান মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিপু রহমানকে মাসে ৩৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এ টাকা প্রতি মাসে কাজী নামের এক ব্যক্তি এসে নিয়ে যান। কাপড়ের ব্যবসা করেই আমাদের সংসার চলে। আমাদের উচ্ছেদ করা হলে বিপদে পড়ে যাবো।’

মো. হানিফ নামের অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ওয়াল করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য বিপু রহমানকে তিন বছর আগে ১৫ লাখ টাকা জামানত দিয়েছি। পরে জানতে পারি জায়গাটি সরকারি। তারপর জামানতের টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানায় আর ফেরত পাচ্ছি না। জামানত ফেরত না দিয়ে এখানে পাঁচ ফুট পজিশনের চারটি অস্থায়ী দোকান করতে দিয়েছে।’

মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে জানতাম এটা বিপু রহমানের জায়গা । পাঁচ ফুট জায়গার দোকান নিতে তিন বছরের চুক্তিতে দেড় লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছি। প্রতি মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে ভাড়া দিচ্ছি। ভাড়ার টাকা বিপু রহমানের ম্যানেজার কাজী ভাই নেন। গত মাসের শেষের দিকে দোকান অপসারণের নোটিশ পেয়েছি। এখন জামানতের অগ্রিম টাকা ফেরত পাবো কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

সড়ক বিভাগের জায়গায় ব্যবসা করা আরো কয়েকজন বলেন, নবীন সিনেমা হলের সামনে হওয়ায় সবাই জানে এটা তাদের জায়গা। দোকান বসাতে গেলে ম্যানেজার কাজীর সাথে কথা বলে বিপু রহমানের কাছে অগ্রিম জামানত দিতে হয়। এ বিষয়ে তারা আমাদের সাথে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে দেয়। দোকান পজিশন পাওয়ার পর প্রতি মাসে ম্যানেজার কাজী ভাড়া উত্তোলন করেন। বিগত অর্ধযুগ ধরে এভাবেই আমরা ব্যবসা করছি। তবে সম্প্রতি জানতে পারি এটা সড়ক বিভাগের জায়গা।

এ বিষয়ে ম্যানেজার মো.কাজীমুদ্দিন বলেন, ‘সড়ক বিভাগের সার্ভেয়ার ও আমাদের সার্ভেয়ার দিয়ে জায়টি পরিমাপ করা হয়েছে। উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া জায়গাটি সড়ক বিভাগের নয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। তারা প্রতি মাসে ভাড়া দেয়। যদি উচ্ছেদের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় অবশ্যই সেটি মালিকপক্ষ বিবেচনা করবেন। তবে জায়গাটি কোনভাবেই সড়ক বিভাগের নয়।’

এ বিষয়ে কাজী বিপু রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কাপড়ের দোকান ভাড়া দেওয়ার জায়গাটি আমাদের ব্যক্তি মালিকাধীন। পরিমাপ করার পর যদি জায়গাটি সড়ক বিভাগের হয় তাহলে তারা নিয়ে যাবে।’

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাউস-উল-হাসান-মারুফ বলেন, ‘নবীন সিনেমা হলের সামনে কাপড়ের দোকানগুলো সড়ক বিভাগের জায়গায়। তাই তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। দোকানগুলো না সরিয়ে নিলে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

 মাসুদ 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়