ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

টাঙ্গাইলে জমি ঘরবাড়ি হুমকিতে ফেলে ডেইরি ফিড প্রতিষ্ঠান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২১, ১ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৯:৪১, ১ ডিসেম্বর ২০২২
টাঙ্গাইলে জমি ঘরবাড়ি হুমকিতে ফেলে ডেইরি ফিড প্রতিষ্ঠান

কয়েকশ একর জমি এবং শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে টাঙ্গাইলের বাসাইলে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘চায়না ডেইরি ফিড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী কর্তৃক কাজটি হওয়ার কারণে কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘ফ্রেন্ডস এসোসিয়েট’ নামে একটি লোকাল কোম্পানির যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি কাশিল ইউনিয়নে টাঙ্গাইল-বাসাইল সড়কের পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে। ৫২ বিঘা জমির উপর কাজটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা বিএনপি নেতা মো. বাদল মিয়া।

এদিকে জমি নিচু হওয়ায় মাটি দিয়ে ভড়াট করা হচ্ছে। সেই মাটি বা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী নথখোলা এলাকার ঝিনাই নদী থেকে। ফলে শত শত একর জমি ও শতাধিক ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।  

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাই নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য বসানো হয়েছে ৫টি ড্রেজার মেশিন। স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলায় নদীর পশ্চিমপারে এবং রাতে নদীর মাঝখানে ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এই এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে  শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বালু বিক্রি করার। 

আব্দুল বারেক মিয়া নামে স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রতিপক্ষ হলেও অবৈধ বালু ব্যবসার সময় তারা এক। এ কারণে এলাকার লোকজন কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবৈধ বালু ব্যবসায়ী বাসাইলের বিএনপি নেতা মো. বাদল, স্থানীয় সব জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সরকার দলীয় লোকদের যোগসাজশেই কাজটি হচ্ছে। ফলে খুব সহজে এর সমাধান হবে বলে তারা মনে করে না। 

মনির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন হুমকি দেয় বালু ব্যবসায়ীরা। তারপরও এলাকাবাসী গ্রাম রক্ষায় মানববন্ধন, বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তাতে লাভ হয়নি। পরবর্তীতে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসন যখন আসে সে সময় বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। তারা চলে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। 

নার্গিস বেগম নামে এক বৃদ্ধা জানান, তার স্বামী নেই। একটু জমি ছিল। সেখানেই ছোট একটি ছাপড়া ঘরে বাস করতেন। কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে গত এক মাস আগে তার শেষ সম্বলটুকুও নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এখন তিনি অন্যের বাড়িতে বাস করছেন।

এ প্রসঙ্গে মো. বাদল মিয়া জানান, বালু উত্তোলনের জন্য তিনি নদীর পশ্চিমপাড়ে জমি কিনেছেন। সেখান থেকেই বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড দিয়ে এপাড়ে এনে তা আনলোড করা হয়। অন্যের জমি বা নদী থেকে তিনি বালু উত্তোলন করছেন না। আর যাদের জমি কিনেছেন তাদের প্রত্যেককে ওই কোম্পানিতে চাকরি দেওয়া হবে। আর এ কারণেই তারা জমি বিক্রি করেছেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, চায়না কোম্পানি হচ্ছে শুনেছেন তবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ভড়াট করা হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানেন না। 

কাওছার/তারা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়