ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

দুই মেয়ের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো করেছেন বাবা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ২ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১১:৩৭, ২ ডিসেম্বর ২০২২
দুই মেয়ের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো করেছেন বাবা

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাবা ও এক মেয়ে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুই মেয়ের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন বাবা জয়নাল আবেদীন (৪৪)। 

পরীক্ষায় দুই মেয়ের একজন কৃতকার্য এবং অপরজন অকৃতকার্য হলেও ভালো নম্বর পেয়ে পাস করেছেন বাবা।  কারিগরি বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষার ভোকেশনাল শাখা থেকে পোল্টি রিয়ারিং এন্ড ফার্মিং বিষয়ে বাবা জয়নাল জিপিএ ৪ দশমিক ৮৬ পেয়েছেন। আর বড় মেয়ে জেসমিন আক্তার ঢাকা বোর্ডের অধীন মানবিক শাখা থেকে জিপিএ ৩ দশমিক ৩৩ পেয়ে কৃতকার্য হয়েছেন। আরেক মেয়ে আছিয়া খাতুন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। 

বাবা জয়নাল আবেদীন উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালিরচালা গ্রামের বাসিন্দা এবং ফুলমালীর চালা ফজরগঞ্জ আলিম মাদরাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। 

দুই মেয়ে উপজেলার ফুলমালির চালা ছাকেদ আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক শাখার শিক্ষার্থী। এছাড়াও জয়নাল আবেদীনের ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে, আরও দুই মেয়ে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে স্থানীয় রাশেদ মডেল স্কুলে পড়াশোনা করছে।

বড় মেয়ে জানান, বাবা-মেয়ে একসাথে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি এটা খুবই আনন্দের। তবে আমার চেয়ে বাবার রেজাল্ট ভালো। ছোট বোন অকৃতকার্য হওয়ায় আনন্দ কিছুটা কম, তারপরও ভাল লাগছে বাবা পরীক্ষায় পাস করেছে বেশি নম্বর পেয়ে। বাবার অদম্য ইচ্ছা-শক্তির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা বাবার সফলতায় আনন্দিত।

জয়নাল আবেদীন বলেন, ১৯৯৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। সংসারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর সৌদি আরবে ৫ বছর প্রবাসী জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসি। পরে ২০০১ সালে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করি। কিন্তু বুকের ভেতরে লেখাপড়া করতে না পারার চাপা কষ্ট মাঝে মধ্যেই আমাকে পীড়া দিতো। লোকলজ্জার কারণে পড়ালেখা হয়ে উঠছিলো না। পরে ২০২০ সালে ফুলমালীর চালা ফজরগঞ্জ আলিম মাদরাসায় ভোকেশনাল শাখার পোল্টি রিয়ারিং এন্ড ফার্মিং ট্রেড শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হই। এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের সাথে আমিও অংশগ্রহণ করি। এতে মেয়েরা আমাকে উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেয়েছি। 

ফুলমালীর চালা ফজরগঞ্জ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর কাদের বলেন, ৪৪ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাস করায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। লেখাপড়ায় বয়স কোন বাধা নয়, এটা জয়নাল আবেদীন প্রমাণ করেছেন। 

কাওছার/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়