ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

রাতভর গুলি বিনিময়ের পর ভোরে মুক্ত হয়েছিলো কুষ্টিয়ার খোকসা 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২২, ৪ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১০:২৩, ৪ ডিসেম্বর ২০২২
রাতভর গুলি বিনিময়ের পর ভোরে মুক্ত হয়েছিলো কুষ্টিয়ার খোকসা 

খোকসা থানার পুরাতন এই ভবনটি ঘিরেই মুক্তিযোদ্ধাদের হামলা পরিচালিত হয়

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতভর মুক্তিযোদ্ধাদের চতুর্মুখী গেরিলা হামলায় দিশেহারা হয়ে ৪ ডিসেম্বর ভোরে ১০৫ জন পুলিশ ও রাজাকার সদস্য আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।  

দিবসটি পালনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খোকসা থানা সদরের খোকসা হাইস্কুল, শোমসপুর হাইস্কুল, গনেশপুরের গোলাবাড়ীর নিলাম কেন্দ্র, মোড়াগাছায় রাজাকার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি ছিলো। এ জনপদে হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে এলাকার মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ইউনিট। প্রথমে থানা দখলের পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ ডিসেম্বর রাত ১১ টার দিকে মুজিববাহিনী কমান্ডার আলাউদ্দিন খান, কে এম মোদাচ্ছের আলী, আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, নুরুল ইসলাম দুলাল, আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মন্টু, রোকন উদ্দিন বাচ্চু, তরিকুল ইসলাম তরু’র নেতৃত্বে ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা থানা দখলের জন্য চার দিক থেকে আক্রমন করে। রাতভর গুলি বিনিময়ের পরদিন প্রত্যুষে ১০৫ জন পুলিশ ও রাজাকার সদস্য আত্মসমর্পণ করে। 

৪ ডিসেম্বর খোকসা থানায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, মোদাচ্ছের আলী, আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, গোলাম ছরোয়ার পাতা, আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মন্টুসহ মুক্তিযোদ্ধারা। দখলকরা প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও আটককৃতদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে ক্যাম্পে পৌঁছায়। 

৪ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের একটি বড় দল আবার থানা দখলের চেষ্টা করলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে মিলিশিয়া ও পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের দলটি খোকসা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। হানাদার মুক্ত হয় খোকসা। 

কাঞ্চন কুমার/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়