ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩২, ৪ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১২:৩৯, ৪ ডিসেম্বর ২০২২
প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক

আকামা পরিবর্তনসহ আইনি সহায়তার জন্য একটি ফার্মে জমা দেওয়া ৬০ লাখের বেশি টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছে কুয়েতে থাকা শতাধিক বাংলাদেশি। একই সঙ্গে ওই ফার্মের আইনজীবীরও ৩০ লাখ টাকা খোয়া গেছে। ৯০ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়ে এক প্রতারক কুয়েত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় প্রতারিত বাংলাদেশি ও কুয়েতি আইনজীবী বাংলাদেশি দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কুয়েতের বাংলাদেশি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ আবুল হোসেন। 

অভিযুক্ত প্রতারকের নাম রুবেল (৪২)। তিনি ঢাকার কেরানিগঞ্জ এলাকার সিরাজনগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। 

কুয়েতপ্রবাসী যশোর সদর উপজেলার আরবপুর এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী জানান, কুয়েতে কোম্পানিতে আকামা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আইনি সহায়তার জন্য শতাধিক বাংলাদেশি স্থানীয় ফার্ম ‘ইনফ্রাদ লিগ্যাল গ্রুপ’ এ আবেদন করেন। সেখানে আইনজীবী’র ফি হিসেবে তারা ১৯ হাজার ৭৮৫ কুয়েতি দিনার জমা দেয়।  বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ টাকা। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দিনার গ্রহণ করেন ওই অফিসের সহকারী হিসেবে কর্মরত রুবেল। 

একই সঙ্গে ওই ফার্মের আইনজীবী মুনা আল বাসরি’রও ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৩ টাকার সমপরিমাণ ১০ হাজার কুয়েতি দিনার তার অফিসে রক্ষিত ছিল। এই ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯০ টাকার কুয়েতি দিনার নিয়ে রুবেল গত ২৪ জুলাই কাউকে না জানিয়ে দেশে চলে আসেন। ঘটনার পরপরই বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারিত বাংলাদেশিরা এবং কুয়েতের আইনজীবী মুনা আল বাসরি কুয়েতে বাংলাদেশি দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ করেন। 

প্রতারিত বাংলাদেশি বগুড়ার গাবতলী এলাকার মোহাম্মদ রানা অভিযোগ করেন, তিনি ১৮ বছর ধরে কুয়েতে অবস্থান করছেন। আকামা পরিবর্তনের জন্য তিনি ২০০ দিনার দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আইনি সহায়তা না দিয়েই প্রতারক রুবেল তারসহ শতাধিক বাংলাদেশির টাকা নিয়ে পালিয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে হোয়াটস্অ্যাপে কথা হয় কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মরত কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ আবুল হোসেনের সঙ্গে।  তিনি বলেন, ১০০ বাংলাদেশি ও কুয়েতি আইনজীবীর অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

আবুল হোসেন আরো বলেন, মাঝে মধ্যেই এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। নানা কায়দায় প্রতারকরা কুয়েতি ও বাংলাদেশিদের কাছ থেকে দিনার সংগ্রহ করে। কুয়েতে বাড়ি করা অথবা ব্যবসায় বিনিয়োগ অথবা বাংলাদেশিদের কাছ থেকেও ব্যবসাসহ নানান লাভজনক খাতের কথা বলে দিনার সংগ্রহ করে প্রতারকরা। কুয়েতি দিনারের মূল্যমান অনেক বেশি হওয়ায় ১০ হাজার দিনার সংগ্রহ করতে পারলেই তা  ৩০ লাখ টাকা হয়। ফলে ওই টাকা নিয়েই গোপনে প্রতারকরা দেশে পালিয়ে যান। তখন পাসপোর্টের ঠিকানা ধরে তাকে প্রতারককে খুঁজে বের করে টাকা উদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময় প্রতারকরা আর ওই ঠিকানায় ফেরেন না। ফলে তাদের আটক বা টাকা উদ্ধার দূরূহ হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন,  দু’একজন বাংলাদেশি প্রতারকের জন্য বিদেশে যেমন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিপাকে পড়েন।  তবে ‘ইনফ্রাদ লিগ্যাল গ্রুপ’র আইনজীবী মুনা আল বাসরি কথা দিয়েছেন তিনি ওই বাংলাদেশিদের আইনগত সেবা দেবেন। 

রুবেলের (পাসপোর্ট- ইকে ০০৬০৩৫৪)। এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইল নম্বর ০১৭৬০-৬৫৬১০০ একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

রিটন/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়