পূবাইলে ১০ ফুটের শাকের ডাটা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা
রফিক সরকার, গাজীপুর পূর্ব || রাইজিংবিডি.কম
সকালের সূর্য তখন পুরোপুরি ওঠেনি। গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের সাপমাড়া এলাকার একটি সবজিক্ষেতের সামনে ছোট ছোট দলে মানুষ দাঁড়িয়ে। কারও হাতে মোবাইল ফোন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে আছেন অস্বাভাবিক লম্বা শাকের ডাটাগুলোর দিকে।
দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে কোনো শিল্পকর্ম ঝুলছে মাঠের ভেতরে। কাছে গেলেই বোঝা যায়, এগুলো আসলে ডাটা শাক। তবে সাধারণ ডাটা নয়-প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুটের কাছাকাছি।
এই ব্যতিক্রমী চাষের কারিগর কৃষক ফেরদৌস মিয়া। যিনি কয়েক বছর আগে পেঁপে চাষে সফলতার গল্প লিখেছিলেন, আবার ক্ষতির তিক্ত অভিজ্ঞতাও সয়ে নিয়েছেন। কিন্তু হার মানেননি।
ফেরদৌসের কৃষিজীবনের গল্পটা আসলে সংগ্রামের গল্প। একসময় তার পেঁপে বাগান ছিল এলাকার আলোচনার বিষয়। সেই বাগান থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন আরো বড় কিছু করার। কিন্তু গত বছর বৈরী আবহাওয়া আর অনুপযুক্ত বীজের কারণে শত শত পেঁপের চারা নষ্ট হয়ে যায়।
অনেকেই তখন তাকে কৃষিকাজ কমিয়ে দিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলেছিলেন, এত ক্ষতির পর আবার ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে না।
ক্ষতির হিসাবের খাতা বন্ধ করে তিনি নতুন করে পরিকল্পনা সাজালেন। ভাবলেন, এমন কিছু করতে হবে যা শুধু ফলনই দেবে না, মানুষকেও আকৃষ্ট করবে। সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় বিশেষ জাতের ডাটা শাকের চাষ।
প্রথম দিকে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি আশপাশের মানুষ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাটাগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে শুরু করল, তখন কৌতূহল বাড়তে লাগল।
একদিন নিজের ফেসবুক পেজ ‘সৌখিন কৃষক’-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ফেরদৌস। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ডাটা প্রায় একজন মানুষের উচ্চতার সমান।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্য, শেয়ার আর প্রতিক্রিয়ায় ভরে যায় তার পেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জানতে চান, কোথায় পাওয়া যাবে এই ডাটা?
ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন শুধু ডাটা শাকটি একনজর দেখার জন্য। অনেকে আবার খালি হাতে ফেরেন না। প্রতিটি ডাটা ১০০ টাকা করে কিনে নিয়ে যান।
সম্প্রতি বাগান দেখতে আসা নজরুল ইসলাম খান বিকি বলেন, “ভিডিও দেখে মনে হয়েছিল হয়তো ক্যামেরার কারসাজি। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখলাম বিষয়টি সত্যি।”
ফেরদৌস মিয়া বলেন, “আমি ভেবেছিলাম নতুন কিছু চেষ্টা করব। কিন্তু মানুষ এত আগ্রহ দেখাবে, সেটা কল্পনাও করিনি। এখন প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসছেন। তাদের আগ্রহ দেখে আরো উৎসাহ পাচ্ছি।”
বর্তমানে প্রায় সাত বিঘা জমিতে তিনি পেঁপে, কলা, লাউ, মরিচ, হলুদ, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃষিবিষয়ক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার বিশ্বাস, কৃষিকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা গেলে তরুণদের আগ্রহ আরো বাড়বে।
ঢাকা/রফিক/ইভা