ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

সড়ক বাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ‘ভুতুড়ে’ নগরীতে পরিণত বরিশাল

জে. খান স্বপন, বরিশাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২  
সড়ক বাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ‘ভুতুড়ে’ নগরীতে পরিণত বরিশাল

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার মঙ্গলবার রাতের ছবি

বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে ৫৯ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সড়ক বাতি ও পানির লাইনের বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো) বরিশাল। 

রোববার বিকেল ৪টা থেকে এই অভিযান শুরু করে নগরীর সব সড়কের বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ওজোপাডিকো বরিশাল বিভাগ।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সব সড়ক অন্ধকার গলিতে পরিণত হয়েছে।

ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফারুক হোসেন জানান, সিটি করপোরেশনের কাছে ওজোপাডিকোর ৫৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া টাকার জন্য  ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৮টি সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আট সড়ক হলো- নগরীর অপরাধপ্রবন এলাকা পলাশপুর সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা বাজার রোড ও পোর্ট রোড, আবাসিক এলাকা কলেজ রো, কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড, নতুন বাজার পুলিশ ফাড়ির সামনের সড়ক, নথুল্লাবাদ লুৎফুর রহমান সড়ক এবং উত্তর আমানতগঞ্জ সড়ক। 

ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে ৫৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।  বকেয়া আদায়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া আদায়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার অধীনে ৭টি সড়কের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সড়কগুলো হলো-কালিজিরা সড়ক, জিয়া সড়ক, ধান গবেষণা সড়ক, টিয়াখালী সড়ক, কালুশাহ সড়ক, নবগ্রাম সড়ক ও বটতলা। এসব সড়কের ৩০টি এলাকার শাখা সড়কের বিদ্যুৎ বাতি জ্বলছে না। 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৮০ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরে কোনো নোটিশ না দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে ১২টি পানি উত্তোলনের মোটরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্বপন আরও জানান, মঙ্গলবার থেকে বিষয়টি টের পেয়েছেন। পানি উত্তোলন করতে না পারলে নগরীতে পানি সংকট দেখা দেবে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন দাবি করেন, ওজোপাডিকো ৪২ কোটি ২০ লাখ টাকা পাবে।

ওজোপাডিকো লিমিটেড বরিশালের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না সিটি করপোরেশন। এতে করে বৃহৎ একটি অংক দাড়িয়েছে। সেই টাকা উত্তোলন করতে না পেরে মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে রয়েছি। তাই সিটি করপোরেশনের সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়।

পরিচালনা ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পাওনা পরিশোধে অসংখ্যবার তাদেরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ পরিশোধের তারিখ ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, কেন তারা এই কাজটি করলো এবং কার অনুমতি নিয়ে করলো তা বলতে পারছি না। আমাদের কোনো কিছুই জানায়নি।  হঠাৎ করে তারা সড়ক বাতি এবং পানি সরবারহের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। আজ পর্যন্ত নগরীর সব সড়ক ও পানির লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

/স্বপন/সাইফ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়