Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮ ||  ১৭ জিলহজ ১৪৪২

বোহেমিয়ান শঙ্করের নারীরা

কাফি আমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:০৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১২   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বোহেমিয়ান শঙ্করের নারীরা

রাইজিংবিডি২৪.কম, মুম্বাই:

পণ্ডিত রবিশঙ্করের সৃষ্টির মতোই বৈচিত্রময় ছিল তার ব্যক্তিগত জীবনও। তার বোহেমিয়ান মন কোনোদিনই বাঁধা পড়েনি সাংসারে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এই মহীরুহ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিরত থেকেছেন বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে। তবে সবকটি প্রেমই ছিল স্বতন্ত্র। তার জীবনে একই সময়ে একাধিক নারী থাকা সত্ত্বেও বরাবরই পৃথক পরিধিতে বিরাজ করেছেন তারা।

প্রায় কিশোর বয়সে গুরু আলাউদ্দিন খানের কন্যা অন্নপূর্ণা দেবীর সঙ্গে বিয়ে হয় রবি শঙ্করের। দুটি সন্তানও হয় তাদের। সুরের প্রতি অদম্য টান দু`জনকে কাছাকাছি আনলেও বিবাহিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি তাদের। চল্লিশের দশক থেকেই তাদের সম্পর্কে চিড় ধরলেও ষাটের দশকের প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাড়াছাড়ি হয় দু`জনের।

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই নৃত্যশিল্পী কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় রবিশঙ্করের। তবে সেখানেও তিনি বাঁধা পড়েননি কোনোদিন। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে স্বামী, স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করলেও ওই সময়েই আরও দু`জন মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। জন্ম দিয়েছেন দুই মেয়ের। আত্মজীবনী রাগ মালায় রবিশঙ্কর লিখেছিলেন, “আমি অনুভব করতাম আমি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নারীর প্রেমে পড়তে পারি। প্রতিটি বন্দরে একজন নারী থাকার মতো.....সেটা অনেক সময় একের জায়গায় একাধিকও ছিল।”

কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন ১৯৭২ সালে তার কনসার্টে তানপুরা সঙ্গত করেছিলেন সুকন্যা রাজন। সুকন্যা বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৮১ সালে সুকন্যা তাদের একমাত্র মেয়ে অনুষ্কার জন্ম দেন। তার আগে ১৯৭৯ সালে নিউ ইয়র্কে তার কনসার্টের আয়োজন সু জোনসের প্রেমে পড়েন রবিশঙ্কর। ওই বছরই জন্ম হয় তাদের সন্তান নোরা জোনসের।

অনুষ্কার জন্মের পরও বহুদিন পর্যন্ত সুকন্যার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে যাননি রবিশঙ্কর। যদিও অন্য দু`জন মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রবিশঙ্করের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সুকন্যা বরাবরই চেয়েছিলেন তাকে বিয়ে করতে। মনস্থির করতে পারেননি রবিশঙ্কর। একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুকন্যা জানিয়েছিলেন, “রবিশঙ্কর তখন ৫৮ বছরের পৌঢ়। আমাকে বলেছিলেন উনি নিজেকে বদলাতে পারবেন না। ওকে এতোটাই ভালোবাসতাম যে বছরে মাত্র কয়েকটা দিন উনি আমার সঙ্গে কাটালেই আমি খুশি হতাম। সেই কয়েকটা দিনের জোয়ারে আমি সারাবছর কাটিয়ে দিতে পারতাম।”

রবিশঙ্কর যখন সুকন্যাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন সু জোনস তার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছিলেন। এমনকী মেয়ে নোরার সঙ্গেও রবিশঙ্করকে কোনোদিন দেখা করতে দেননি। কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে তার দু`দশকের সম্পর্ক ভেঙে যায় তখন। ১৯৮৯ সালে অনুষ্কার ৮ বছর বয়সে সুকন্যাকে বিয়ে করেন রবিশঙ্কর। প্রেম বহু নারীর থেকে পেলেও সুকন্যাই তার জীবনে স্থায়িত্ব এনে দেয়।

তিনি কোনোদিনই সেভাবে পারিবারিক জীবন পাননি। খুব কম বয়সে বিয়ে হয় ওনার। যখন সমস্যা শুরু হয় উনি বিদেশে অনুষ্ঠানে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে শুরু করেন। উনি সম্পূর্ণ বোহেমিয়ান ছিলেন। অবশ্যই ওনার জীবনে কমলা আন্টি ছিল। কিন্তু উনিও তাকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমি ওনাকে সংসার দিতে চেয়েছিলাম যা উনি সত্যিই কোনোদিন পাননি। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন সুকন্যা।

সুকন্যা শঙ্করের কাছ থেকেই রবিশঙ্কর ভালোবাসা, খুশি, স্থিতি সবকিছুই পেয়েছিলেন। সুকন্যা শুধু তার দোষত্রুটিই মেনে নেননি, তার আশপাশের মানুষগুলোকেও কাছে টেনে নিয়েছিলেন। কমলা শাস্ত্রীর সঙ্গে গভীর সখ্য ছিল রবিশঙ্করের। পণ্ডিতজিতে কমলা বলেছিলেন সুকন্যাকে বিয়ে করাই তার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত। তার জীবনের সব নারীরাই বিভিন্ন সময়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবুও আজীবন ভালোবেসে গেছেন সকলেই। আসলে তিনি ছিলেনই স্বতন্ত্র। তার সৃষ্টির মতোই। সূত্র: ওয়েবসাইট।

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়