ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

বিভ্রান্ত হবেন না, বিচার হবেই: প্রধানমন্ত্রী

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৫৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১২   আপডেট: ০৮:৪৫, ১১ আগস্ট ২০২০
বিভ্রান্ত হবেন না, বিচার হবেই: প্রধানমন্ত্রী

সব বাধা পেরিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শেষ করার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি বলেন,“কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।যতোই বাধা আসুক না কেন-এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই বাংলায় হবেই হবে।”

স্কাইপে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত কথোপকথন নিয়ে বিতর্কের মুখে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিচারপতি নিজামুল হক ইস্তফা দেয়ার পর নতুন করে বিচার শুরু করতে বিরোধী দলের দাবির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বললেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ও বর্তমান আমিরসহ শীর্ষ নয় নেতা এবং বিএনপির দুই নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।বিচারপতি নিজামুলের পদত্যাগের পর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নতুন করে শুরু করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভিযোগ,বিএনপি ও তাদের শরিক জামায়াত নানাভাবে বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন,“মনে রাখতে হবে-যে শক্তি এই যুদ্ধাপরাধীদের ধুয়ে মুছে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।যারা এই হত্যাকারীদের সমর্থন দিয়েছিল-তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকবে।”

“তারা আমাদের নানাভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখবে-এই বিচার যেন না হয়।এটাই স্বাভাবিক”,বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,“যারা চায়নি-এই দেশ স্বাধীন হোক,যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল... স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিলো-তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।”

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“অনেকে ভাবছে-এই সরকারের ওপর যদি কালিমা লেপন করতে পারে তাহলে এই বিচার ব্যাহত হবে।”

কোনো বিশেষ দৈনিক বা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন,“আওয়ামী লীগ কিছু করলে সেটা ফ্রন্ট পেইজে আসে।আর ছাত্রদল কিছু করলে তা ব্যাক পেইজে ছোট করে আসে।... হরতালের সময় অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেয়া হলো এটা ছোট করে আসলো।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন,“এটা কি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর খেলা? এ ধরনের খেলা আমরা আগেও দেখেছি।”

গত ৯ ডিসেম্বর বিরোধীদলের অবরোধের সময় পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে বিশ্বজিত দাস নামের এক দোরজির দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।ওই ঘটনার পর অভিযোগের আঙুল ওঠে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের দিকে।

হামলার ছবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ করা হয়।অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হচ্ছে,জড়িতরা কেউই ছাত্রলীগের নয়,তারা ‘অনুপ্রবেশকারী’।

শেখ হাসিনা আলোচনা সভায় দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন,“আমরা ক্ষমতায় আছি।অনেকে ভোল পাল্টে আসতে চাইবে।অপকর্ম করে আমাদের অপবাদ দেবে।এজন্য কাকে নিচ্ছেন,সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।”

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন,“আমরা বিচার শুরু করেছি।তা সম্পন্ন করব।এজন্য,সবার সহযোগিতা চাই।”

“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে,জাতি কলুষমুক্ত হবে- এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা”,বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন,বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে।

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,“আপনারা সংসদে আসুন।প্রধানমন্ত্রী সংসদে সব রকমের আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”

সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেকও বিরোধী দলের প্রতি একই পরামর্শ দিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ আশরাফ।

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়