ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারা স্বাস্থ‌্য ঝুঁকির কারণ’

বিশ্ববিদ‌্যালয় সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৮ ১০:৫৪:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৯ ৮:৩২:১০ এএম

অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ক‌্যান্টিনের খাবাব অস্বাস্থ‌্যকর হওয়ায় আন্দোলন করছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। সংকট যখন চরমে, তখন দেশটির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে  সম্প্রতি এ নিয়ে একটি গবেষণা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারা তাঁদের ভয়ানক স্বাস্থ‌্য ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মানসিক অশান্তি, ক্যান্সারসহ নানা ধরনের মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

শাবির রিসার্চ সেন্টার এর সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার বিভিন্ন দিক যাচাই করা। ২০১৬-২০১৭ সালে গবেষণাটি পরিচালিত হয় এবং সম্প্রতি এর উপর ভিত্তি করে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘International journal of adolescent medicine and health I Journal of Public Health’ এ প্রকাশিত হয়।

সিলেট শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপর পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব। তারা অনিয়মিত এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্তের পাশাপাশি অতি মাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া, ধূমপান করা এবং অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে। এছাড়া ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থী কোনো ধরনের শরীরচর্চা করেন না বলেও উঠে এসেছে এ গবেষণায়। এর মধ্যে ৫৮ ভাগ শিক্ষার্থী বিষয়গুলোর কুফল জানলেও কখনই তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেননি।

উল্লেখ্য, Stratified Random Sampling এর মাধ্যমে সিলেটের দুইটি পাবলিক এবং চারটি প্রাইভেট  বিশ্ববিদ্যালয়ের ১,১৪৩ জন শিক্ষার্থীর ৩৫ শতাংশ ছাত্রী ও ৬৫ শতাংশ ছাত্রের আর্থসামাজিক অবস্থা, নৃতাত্ত্বিক পরিমাপ, জীবনধারা এবং সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।  উক্ত গবেষণাটি একটি Cross-sectional গবেষণা এবং এই গবেষণা থেকে থেকে দুইটি পেপার International journal of adolescent medicine and health I Journal of Public Health এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে আরো দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাস্তা করেন না। এই অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণ হিসেবে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা ক্লাসের চাপকে দায়ী করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্বাভাবিক বি.এম.আই. (Body Mass Index-BMI) এর অধিকারী। অনুসন্ধান বলছে যারাই নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করছেন না, তাদের বি.এম.আই. নিয়মিত খাদ্য গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তুলনায় কম। যেসব শিক্ষার্থী প্রয়োজনে নিজেরা উপার্জন করছেন তুলনামূলকভাবে তাদের বি.এম.আই. অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে বেশি। শিক্ষার্থীদের ঊর্ধ্বগামী বয়সের সাথে সাথে তাদের বি.এম.আই. বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

যদিও শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিনিয়ত খেলাধুলা করার প্রচলন কম, কিন্তু যারা প্রতিনিয়ত খেলাধুলা করছেন গবেষণার ফলাফল বলছে তারাও স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপারে উদাসীন।

অপরদিকে নিয়মিত শরীর চর্চা করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ শতাংশের কম। মাত্র ৫৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বলছেন, তারা শুধু দৈনন্দিন কাজকর্মের (নিত্য প্রয়োজনীয় ঘরোয়া কাজকর্ম) সাথে যুক্ত। অনুসন্ধান বলছে, ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দৈনিক চার ঘণ্টার বেশি সময় কম্পিউটারের সামনে অতিবাহিত করছেন।

গবেষণায় আরো উল্লেখ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা এবং তাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অধিকাংশ শিক্ষার্থী দাবি করছেন, তাদের মানসিক প্রফুল্লতা তাদের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে অনুপ্রাণিত করছে অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীরা মানসিক প্রশান্তির সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছেন। এদিকে প্রায় ৮৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বলছেন, একাকীত্বের সময় তাদের মধ্যে খাদ্যগ্রহণে অনিহা দেখা দিচ্ছে।

অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সভা, সেমিনার, পোস্টার-লিফলেট, ইত্যাদির মাধ্যমে নিয়মিত জীবনধারা, সুষম খাদ্য ও সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য গবেষণায় সুপারিশ করা হয়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।


শাবিপ্রবি/মাসুদ আল রাজী/হাকিম মাহি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন