ঢাকা, রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘পরিবার নিয়ে দেখার মতো সিনেমা বানাতে হবে’

রায়হান হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২১ ৯:০৬:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০১ ১:১৭:২৫ পিএম

নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় সিনেমা হলের ব্যবসা করতেন দিদারুল ইসলাম নামের একজন তরুণ। তিনি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার একজন বাসিন্দা। প্রাথমিক জীবনে তিনি চলচ্চিত্র কিনে বিভিন্ন সিনেমা হলে চালাতেন। সেখান থেকে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালাতেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং ইউটিউবের সম্প্রসারণের ফলে দেশের বিভিন্ন জায়গার অনেক সিনেমা হল বন্ধ হতে শুরু করে। ফলে তাঁর আয়ের পথ সংকুচিত হতে থাকে। পরিবারে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার ব্যয়ভার, তার মায়ের চিকিৎসার খরচ চালানো তার জন‌্যে অসাধ‌্য হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি পানের ব্যবসা শুরু করেন।

সিনেমা ও সিনেমা হলের সেকাল ও একাল নিয়ে তিনি কথা বলেছেন রাইজিংবিডি ডটকমের ক্যাম্পাস পাতার লেখক এবং ঢাকা কলেজশিক্ষার্থী রায়হান হোসেনের সাথে।

রাইজিংবিডি: আপনি কেমন আছেন?

দিদারুল ইসলাম: ভালো আছি।

রাইজিংবিডি: এর আগে আপনার সাথে যখন পানের বরজ নিয়ে কথা বলছিলাম, তখন বলেছিলেন, একটা সময়ে আপনি সিনেমা হল ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। এ ব্যবসায় আপনার আগমন কীভাবে?

দিদারুল ইসলাম: আমার একজন দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে আমি সিনেমা হল ব্যবসায় গিয়েছিলাম। প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর আমি এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বর্তমানে সিনেমা হলের খারাপ অবস্থার জন্য ২০১৪ সালে আমি সিনেমা হল ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম।

রাইজিংবিডি: সিনেমা হলের খারাপ অবস্থা বা  পতনের  জন্য কারা দায়ী বলে আপনি মনে করেন?

দিদারুল ইসলাম: মানহীন সিনেমা, অনুন্নত পরিবেশ, হল আধুনিকায়ন না হওয়া, হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং ইউটিউবে  সিনেমা দেখার অপার সুযোগ ইত্যাদি কারণে সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দর্শকরা। এছাড়া পুঁজির অভাবও একটি অন্যতম কারণ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে সিনেমাগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে, পূর্বের মতো পরিবারের সবাই একসাথে হলে গিয়ে দেখার মতো অবস্থা নেই।

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশের সিনেমা হলের সুসময়টা কেমন ছিল?

দিদারুল ইসলাম: সত্তরের দশকে দেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ ছিল। ওই সময় সামাজিক সব দারুণ ছবি নির্মিত হয়েছে। সিনেমা হলে ঢুকে সব ধরনের দর্শক ছবিগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখেছেন। একটা সময় নায়করাজ রাজ্জাক, ড্যাসিং সোহেল রানা, সুপার স্টার ফারুক, সু–অভিনেত্রী কবরী, বিউটি কুইন শাবানা, টেলেন্টেড ববিতা বলে যে ‘ভাবমূর্তি’ ছিলো, এসব নাম আর কখনো তৈরি হয়নি।

রাইজিংবিডি: সিনেমা হলগুলোকে আগের মতো দর্শকপূর্ণ করতে হলে কি কি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

দিদারুল ইসলাম: পূর্বের মতো পরিবারের সবাই যেন একসাথে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতে পারে, সে রকম পরিবেশ সৃষ্টি করা, ছবিগুলোতে অশালীন পোশাক পরিচ্ছদ পরিহার করা, যৌথ প্রযোজনার নামে ভারতীয় ছবি আমদানী বন্ধ করা এবং সেন্সর বোর্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও ভালো গল্প নিয়ে তৈরি করা।

রাইজিংবিডি: ধন্যবাদ আপনাকে।

দিদারুল ইসলাম: আমাদের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কথা শুনবার জন্য আপনাকে এবং রাইজিংবিডিকেও ধন্যবাদ।


ঢাকা কলেজ/রায়হান হোসেন/হাকিম মাহি 

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন