ঢাকা, শনিবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

হাবিপ্রবির চিকিৎসা কেন্দ্রে আস্থা নেই শিক্ষার্থীদের

মো. সোয়াদুজ্জামান সোয়াদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ৮:৩৬:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ৮:৩৬:১১ পিএম

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে আশানুরূপ সেবা না পাওয়ায় দিন দিন রোগীশূন্য হয়ে যাচ্ছে।

অব্যস্থাপনা, ওষুধ না দেয়া এমনকি জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা না মেলার কারণে ছুটতে হচ্ছে বাইরের চিকিৎসা কেন্দ্রে। এতে বাড়তি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য দফতরগুলো বন্ধ হওয়ার পরপরই চিকিৎসক শূন্য হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র এ চিকিৎসাকেন্দ্র। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারের অবস্থা আরও খারাপ। ওই দুই দিন যেন নামমাত্র হাজিরা দিতে আসে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী সারমিন সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শুক্রবার দুই জন মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। মেডিকেলে শুধু অ্যাম্বুলেন্স চালক ছাড়া কেউ ছিল না, পরে তার মাধ্যমে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। হুটহাট মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিন্তু ওনাদের (চিকিৎসক) খোঁজ থাকে না। এমনকি কেউ হেঁটে মেডিকেল সেন্টার যেতে না পারলে ডাক্তারদের অনুরোধ করার পরও তারা আসে না। আর বেশির ভাগ সময়ই রাতে কাউকে পাওয়া যায় না।’

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে যায়, প্রায় ১১ হাজার আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসক মাত্র ৬ জন থাকলেও নার্সের সংখ্যা শূন্য। আর অ্যাম্বুলেন্স ২টি।

রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে আল্ট্রাস্নোগ্রাম, এক্সরে মেশিন ও নামমাত্র প্যাথলজি ল্যাব থাকলেও নেই সঠিক ব্যবহার। ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে অল্প সংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য আসলেও তাদের ফিরতে হচ্ছে কেবল ব্যবস্থাপত্র হাতে, কিংবা পাঠানো হচ্ছে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে।

ব্যবস্থাপত্র হাতে চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহে সাত দিন মেডিকেল সেন্টার খোলা থাকার পাশাপাশি সাধারণ মেডিসিনগুলো যুক্ত করা হলে খুবই ভালো হত। নার্স ও অতিরিক্ত স্পেশালিস্ট ডাক্তার যুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

নার্সের অভাবে প্রাথমিক চিকিৎসাও সঠিকভাবে মেলে না বলে জানায় এ শিক্ষার্থী। তার সাথে আসা রসায়ন বিভাগের মোকাররম হোসেন বলেন, ‘খেলাধুলা করার সময় কিংবা অ্যাক্সিডেন্টালি কেটে বা ছিলে গেলে এখানে সেলাই, ব্যান্ডেজ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় যেতে হয় শহরে (দিনাজপুর)। ফলে, রক্তক্ষরণ ও হয়রানির শিকার হতে হয়।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে চিকিৎসা কেন্দ্রে ১০টি বেড থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমান বেডের সংখ্যা ৩টি। বাকি ৭টি বেড কোথায় জানতে চাইলে চিফ মেডিক্যাল অফিসার ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত জায়গার অভাব আর এখানে রোগী ভর্তি হয়ে বেশিক্ষণ থাকে না বলে পুরুষ ওয়ার্ডের বেডগুলো সরিয়ে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্র এক্সরে মেশিন বসানো হয়েছে। শুধু চিকেন ফক্স রোগীরা মাঝেমধ্যে ভর্তি হয়।’

আবার, চিকিৎসকদের চিকিৎসা পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপত্রে গণহারে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দেয়ার প্রবণতায় অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা। জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তাদের চিকিৎসা দানের পদ্ধতি এবং গণহারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার প্রবণতা এবং সাধারণ অসুখের জন্য অনেক দামী দামী ওষুধ রেফার করা, এসব দেখে আপনি কখনোই বলতে পারবেন না এরা শিক্ষার্থীবান্ধব ডাক্তার। ব্যাপারটা মোটেও সুখকর না।’

ওয়েট মেশিন নষ্ট থাকার অভিযোগ মেনে নিয়ে চিফ মেডিক্যাল অফিসার বলেন, ‘দিনে ৫০০ এর বেশি ছাত্র-ছাত্রী ওজন মাপতে আসেন। একেকজন দুই তিনবার করেও উঠে, ফলে ১৫ দিন অন্তরান্তর মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যায়।’

চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ স্বয়ং এসব তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। ডাক্তার ও স্টাফ সংখ্যা বাড়ানো গেলে এসব সমস্যা থাকবে না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, স্টাফ-চিকিৎসকের স্বল্পতা থাকলেও দায়িত্বে গাফিলতি না করলে পর্যাপ্ত সেবা দেয়া সম্ভব।

এদিকে চিকিৎসা কেন্দ্রটির সম্প্রসারণ ও সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের সম্প্রসারণের কাজ চলমান আছে। সেখানে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড থাকবে এবং একটি অপারেশন থিয়েটার থাকবে। রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করার ও পরিকল্পনা আছে। সাধারণ ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তোলার নিমিত্তে কাজ করছে প্রশাসন।


হাবিপ্রবি/সোয়াদ/হাকিম মাহি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন