ঢাকা, সোমবার, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

পুণ্যস্নানে পুণ্যের খোঁজে মণিপুরিরা ​

রফিকুল ইসলাম জসিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১২ ১০:৩২:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১২ ১০:৩২:৪৫ পিএম

দুটি পাতা একটি কুঁড়ির স্থান বৃহত্তর সিলেট। এখানে বসবাসকারীদের মধ্যে এক অনন্য ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হচ্ছে মণিপুরিরা। এরা এদেশের অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতির ধারক।​

মণিপুরিদের মধ্যে এক বিরাট সংখ্যক লোক হচ্ছে​ন সনাতন ধর্মের অনুসারী। সনাতন ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ১২ নভেম্বরের ‘মহারাসলীলা’।

প্রতিবছর কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ এবং আদমপুর সানাঠাকুর মাণ্ডপে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্ণিমার দিন সকালে পাপমোচন ও পূণ্য লাভের আশায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দলে দলে পূজা-অর্চনা পাঠ ও পুণ্যস্নান করেন। মণিপুরি সনাতন ধর্মের​ একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও দিনে দিনে রাসউৎসব হয়ে উঠছে সর্বজনীন উৎসব।​

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়ামণ্ডপ ও আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মণ্ডপ প্রাঙ্গনে প্রতিবছর রাসোৎসব উদযাপন করে। উৎসব উপলক্ষে উভয় স্থানে বসে বর্ণাঢ্য মেলা। মণিপুরি সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে ওঠেন এই আনন্দ উৎসবে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যটক, বরেণ্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে গোটা উৎসব অঙ্গন।

এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১১ টায় শুরু হয়েছে রাখাল নৃত্য, বিকাল ৫টায় আলোচনা সভা, সন্ধ্যা ৭ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনায় আছেন ভারতের মণিপুরের শিল্পীবৃন্দ। রাত ১২টা ১মিনিটে মহারাসলীলা শুরু হবে।

উল্লেখ্য, মহারাজার মৃত্যুর একশ বছর পরে মহারাজ চন্দ্রকীর্তির শাসনামলে গোটা রাসনৃত্য আচৌকা, বৃন্দাবন, খুডুম্বা, গোস্ট, গোস্ট বৃন্দাবন, আচৌবা বৃন্দাবনসহ নানা ভঙ্গির পর্যায়ে পড়ে। তার মৃত্যুর পর মহারাজ চন্দ্রকীর্তি এ উৎসবকে আরও বেশি জনপ্রিয় করতে এটি মণিপুরিদের মাঝে ছড়িয়ে দেন।


কমলগঞ্জ/রফিকুল ইসলাম/হাকিম মাহি ​

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন