ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে গাছিদের অভিনব পদ্ধতি

রায়হান হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৪ ৯:১৪:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৫ ১২:৩৬:১৬ এএম

দিনটি ছিল ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন। চারদিকে ঘন কুয়াশা আর পৌষের গা হিম করা শীত। খুব ভোরে গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাঁটতে লাগলাম। মাটির রাস্তা। দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে মেহগনি গাছ। হালকা বাতাস আসছে, সাথে গাছের শুকনো পাতাগুলো বৃষ্টির মতো পড়তে শুরু করলো। সব মিলিয়ে একটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ছিল।

হাঁটতে হাঁটতে একটি ফসলের মাঠের ভেতর প্রবেশ করলাম। তারপর দু’পাশে সারিবদ্ধ কিছু খেজুর গাছ দেখলাম। গ্রামীণ রাস্তার পাশে প্রকৃতিতে এ দৃশ্য যেন এখন কল্পনার খোরাক। হঠাৎ একটি খেজুর গাছের মাথায় চোখ আটকিয়ে গেল, দেখলাম রসের হাঁড়ির সাথে বাদুড় ঝুলছে। বেশ কৌতূহল নিয়ে খেজুর গাছটির নিচে গেলাম, লক্ষ করলাম গাছের মাথায়, যেখান থেকে রস বের হয়, সেখানে জাল দিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে করে বাদুড় রস খেতে না পারে।

হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠল কী মিয়া কী দেখো! তার ডাক শুনে একটু ভয় পেয়ে গেলাম।

পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি খেজুরের রস সংগ্রহকারী বাদল মিয়া। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, খেজুর গাছে আবার জাল দিয়েছেন কেন। আগে তো এই পদ্ধতি দেখিনি।

বাদল মিয়া বলল, ‘দেখবা কেমনে মিয়া! আগে কত মানুষ কাঁচা খেজুরের রস খেয়ে মারা গেছে। তখন তো আমরা জানতাম না যে, খেজুরের রসে বাদুড়ের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায়। এই নিপাহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খেজুর গাছের মাথায় জাল দেয়া, যাতে বাদুড়ে রস না খেতে পারে। ক্রেতা যেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়।’

বাদল মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়িতে খেজুর রস কিনতে একদিন আগেও বায়না দিয়ে যেত অনেকে। খাঁটি খেজুর গুড়ের ঘ্রাণ থাকতো পুরো শীত মৌসুম। এখন আর খেজুরগাছ নেই তেমন। আর যা আছে, তাতে রসও পড়ে অল্প। খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে, এমনটা ভেবে কেউ এখন আর কাঁচা রস শখ করেও খায় না। তাছাড়া, খুব একটা পাওয়াও যায় না। যখন আমরা ছোট ছিলাম, তখন শীতের সকাল মানেই খেজুরের রস খাওয়া। আর এখনকার বাচ্চারা খেজুর রসের স্বাদ কেমন, তাই জানে না। দিন দিন গাছ কমে যাওয়ায় রসও পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। তাছাড়া খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে খেজুরগাছ কাটি। কয়েক বছর আগেও খেজুরগাছ কেটে শেষ করতে পারতাম না। এত পরিমাণে গাছ ছিল। আর এখন মাত্র দুই দিন লাগে, এই এলাকার সব গাছ কাটতে। এখন আর আগের মতো রস পড়ে না। তাছাড়া বাদুরের বেশ উৎপাত। অনেক গাছই এখন আর কাটা হয় না।’

তারপরও ভেজালমুক্ত গুড় পাওয়ার আশায় এখনো অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে আমার কাছ খেজুরের টাটকা গুড় সংগ্রহ করে।’

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

 

ঢাকা/হাকিম মাহি